আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের
বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বাংলার গৌরবোজ্জ্বল হিন্দু স্থাপত্য ও সনাতনী ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ির পবিত্র মাটিতে এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। রাজপরিবারের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক দ্বিতল ভবন দিনের আলোয় প্রকাশ্যেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এক দখলদার। স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বারংবার নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে মনিরুল ইসলাম ওরফে সাবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঐতিহাসিক এই পুরাকীর্তি ভেঙে মূল্যবান পুরনো ইট কালোবাজারে বিক্রি করছেন তিনি।
পুঠিয়া রাজবাড়ির মূল আঙিনার ভেতরেই অবস্থিত এই ভবনটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর একপাশে আকাশচুম্বী শিখর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ঐতিহাসিক 'বড় শিব মন্দির' এবং অন্যপাশে পবিত্র 'দোল মন্দির'। এই দুই মন্দিরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত দ্বিতল ভবনটিতে একসময় রাজপরিবারের নিরাপত্তা প্রহরী নিতাই সিং বসবাস করতেন বলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। অথচ এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে এখন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, তার দাদা কোনো এক মাড়োয়ারির কাছ থেকে এটি কিনেছিলেন, যদিও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ এপ্রিল। পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান যখন দাপ্তরিক কাজে বাইরে ছিলেন, সেই সুযোগে মনিরুল শ্রমিক লাগিয়ে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে মুঠোফোনে তাকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও, তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ শ্রমিক লাগিয়ে ভবনটি প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেন। পরবর্তীকালে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুজন শ্রমিককে আটক করা হলেও মনিরুল মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যান। কিন্তু তার ঔদ্ধত্য থামেনি। অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আইনি আলোচনার পরদিন রবিবার সকালেই তিনি পুনরায় ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ির শত একর জমির মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ একর বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। বাকি অধিকাংশ ভূসম্পত্তি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা স্থানীয় প্রভাবশালীদের গ্রাসে চলে গেছে। গত ৪ মার্চ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজবাড়ির চারটি স্থাপনাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং বর্তমান এই ভবনটিও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আইনিভাবে এটি সংরক্ষিত ঘোষিত হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চায় দখলদার পক্ষ।
Hindus News
Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের
বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
পুরাকীর্তি আইন ১৯৬৮ (সংশোধিত ১৯৭৬) অনুযায়ী, সংরক্ষিত কোনো মন্দিরের ১০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনার পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অথচ শিব মন্দির ও দোল মন্দিরের গা ঘেঁষে থাকা এই স্থাপনাটি ধ্বংস করে বড় শিব মন্দিরের নান্দনিকতা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা সংকটে ফেলা হচ্ছে।
পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মৌখিক ও দাপ্তরিক বাধা এবং মুচলেকা দেওয়ার পরেও মনিরুল ইসলামের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড স্পষ্টত আইনের অবমাননা। হিন্দু রাজন্যবর্গের এই পবিত্র স্মারক রক্ষায় প্রশাসন যদি এখন কঠোর না হয়, তবে অচিরেই পুঠিয়া রাজবাড়ির অবশিষ্ট ঐতিহ্যটুকুও চিরতরে হারিয়ে যাবে।
সনাতনী সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক হিন্দু ঐতিহ্যের এই পীঠস্থানে প্রশাসনের এমন অসহায়ত্ব স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঐতিহ্য প্রেমীদের দাবি, অনতিবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত
মন্তব্য করার জন্য অনুগ্রহ করে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
পুঠিয়ায় রাজপরিবারের ঐতিহাসিক প্রত্ননিদর্শন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে দখলদার
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
বাংলার গৌরবোজ্জ্বল হিন্দু স্থাপত্য ও সনাতনী ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ির পবিত্র মাটিতে এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। রাজপরিবারের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক দ্বিতল ভবন দিনের আলোয় প্রকাশ্যেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এক দখলদার। স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বারংবার নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে মনিরুল ইসলাম ওরফে সাবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঐতিহাসিক এই পুরাকীর্তি ভেঙে মূল্যবান পুরনো ইট কালোবাজারে বিক্রি করছেন তিনি।
পুঠিয়া রাজবাড়ির মূল আঙিনার ভেতরেই অবস্থিত এই ভবনটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর একপাশে আকাশচুম্বী শিখর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ঐতিহাসিক 'বড় শিব মন্দির' এবং অন্যপাশে পবিত্র 'দোল মন্দির'। এই দুই মন্দিরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত দ্বিতল ভবনটিতে একসময় রাজপরিবারের নিরাপত্তা প্রহরী নিতাই সিং বসবাস করতেন বলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। অথচ এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে এখন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, তার দাদা কোনো এক মাড়োয়ারির কাছ থেকে এটি কিনেছিলেন, যদিও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ এপ্রিল। পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান যখন দাপ্তরিক কাজে বাইরে ছিলেন, সেই সুযোগে মনিরুল শ্রমিক লাগিয়ে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে মুঠোফোনে তাকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও, তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ শ্রমিক লাগিয়ে ভবনটি প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেন। পরবর্তীকালে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুজন শ্রমিককে আটক করা হলেও মনিরুল মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যান। কিন্তু তার ঔদ্ধত্য থামেনি। অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আইনি আলোচনার পরদিন রবিবার সকালেই তিনি পুনরায় ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ির শত একর জমির মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ একর বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। বাকি অধিকাংশ ভূসম্পত্তি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা স্থানীয় প্রভাবশালীদের গ্রাসে চলে গেছে। গত ৪ মার্চ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজবাড়ির চারটি স্থাপনাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং বর্তমান এই ভবনটিও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আইনিভাবে এটি সংরক্ষিত ঘোষিত হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চায় দখলদার পক্ষ।
পুরাকীর্তি আইন ১৯৬৮ (সংশোধিত ১৯৭৬) অনুযায়ী, সংরক্ষিত কোনো মন্দিরের ১০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনার পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অথচ শিব মন্দির ও দোল মন্দিরের গা ঘেঁষে থাকা এই স্থাপনাটি ধ্বংস করে বড় শিব মন্দিরের নান্দনিকতা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা সংকটে ফেলা হচ্ছে।
পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মৌখিক ও দাপ্তরিক বাধা এবং মুচলেকা দেওয়ার পরেও মনিরুল ইসলামের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড স্পষ্টত আইনের অবমাননা। হিন্দু রাজন্যবর্গের এই পবিত্র স্মারক রক্ষায় প্রশাসন যদি এখন কঠোর না হয়, তবে অচিরেই পুঠিয়া রাজবাড়ির অবশিষ্ট ঐতিহ্যটুকুও চিরতরে হারিয়ে যাবে।
সনাতনী সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক হিন্দু ঐতিহ্যের এই পীঠস্থানে প্রশাসনের এমন অসহায়ত্ব স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঐতিহ্য প্রেমীদের দাবি, অনতিবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে
প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মতামত