তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করার পর থেকেই উসাইমং মারমার জীবনে নেমে এসেছে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ। উসাইমং মারমার অভিযোগ, মামলার আবেদন করার পর থেকেই পুলিশ তার রাঙ্গামাটির বাড়িতে এবং কর্মস্থলে দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি সেনাবাহিনী থেকেও তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সব স্বপ্ন চুরমার হওয়ার পর বিচার চাওয়াটাই কি এখন তার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে? সংখ্যালঘু জাতিসত্তার একজন নাগরিক হিসেবে তিনি এখন নিজ দেশে পরবাসীর মতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই মামলার আবেদন করিয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করতেই বিমান বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। যদিও বিমান বাহিনীর ভেতর ‘উগ্রপন্থার’ উপস্থিতির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে তারা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, একজন সন্তানহারা বাবা যখন আইনি পথে বিচার চান, তখন তাকে উগ্রবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দেওয়া কতটুকু ন্যায়সঙ্গত? বিচার পাওয়ার অধিকার কি পাহাড়ি বা সংখ্যালঘু নাগরিকদের নেই? উসাইমং মারমার এই অসহায়ত্ব আজ দেশের মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
মতামত