অনুষ্ঠানস্থল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে প্রায় তিন হাজার আমন্ত্রিত অতিথির বসার আসন বরাদ্দ থাকলেও পাস ছাড়া আরও কয়েক হাজার বহিরাগত ব্যক্তি পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এবং প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এই অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে উল্টো হেনস্তার শিকার হন সংবাদকর্মীরা। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক ও প্রতিদিনের সংবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত সাতজন কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকের দামি স্মার্টফোন চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে চরম অব্যবস্থাপনা, হেনস্তা ও নিরাপত্তার অভাবে ক্ষোভ ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করে শত শত পাসধারী আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবেশের প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় ব্যাপক হট্টগোল দেখা দেয় এবং ভেতরে প্রবেশ করেই তিনি দেখেন তাঁর মোবাইলটি চুরি হয়ে গেছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গেটে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি জানালেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আরও ছয়জন সাংবাদিক ও জেলা প্রশাসনের একজন কর্মচারীসহ অন্তত ৪৫ জন দর্শক তাঁদের মোবাইল চুরির কথা পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে সে সময় কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এই নজিরবিহীন চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ এসপি আবদুল্লাহ আল-ফারুক জানান, অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য নরসিংদী ও এর আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শক আসার কারণে হয়তো কিছু চোরও ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। মুঠোফোন খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ বা জিডি করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সেগুলো উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে দেশের যেকোনো প্রান্তের সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে প্রশাসনকে ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও তৎপর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মতামত