আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের
বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
চরম অর্থনৈতিক সংকট, স্বামীর আকস্মিক দুর্ঘটনা আর সংসারের তীব্র অভাবের মুখে দাঁড়িয়েও যে মানুষ হার মানে না, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল বড়ুয়া পাড়ার গৃহবধূ অঞ্জনা বড়ুয়া। যিনি আজ কেবল একজন সফল নারী উদ্যোক্তাই নন, বরং সনাতনী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণা। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা অঞ্জনা বড়ুয়ার খামারে আজ শোভা পাচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের গবাদিপশু। সনাতনীদের অধিকার, নারী জাগরণ এবং যেকোনো প্রান্তিক মানুষের মানবাধিকারের মূল ভিত্তিই হলো অর্থনৈতিক মুক্তি। আর সেই মুক্তির পথটি নিজ হাতে তৈরি করে দেখিয়েছেন এই কঠোর পরিশ্রমী নারী, যার এই সাফল্য আজ তুলে ধরছে "HINDUS NEWS"।
অঞ্জনা বড়ুয়ার এই সাফল্যের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৬ সালের শেষ দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার স্বামী, পেশায় নলকূপ মেকানিক নিতুপূর্ণ বড়ুয়ার শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। দীর্ঘ তিন মাস চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। স্বামীর চিকিৎসা খরচ এবং দুই শিশু সন্তানের ভরণপোষণ মেলাতে যখন অঞ্জনা হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন তার এক আত্মীয়ের দেওয়া মাত্র পাঁচ হাজার টাকাই হয়ে ওঠে তার নতুন জীবনের মূলধন। সেই পুঁজি দিয়ে জমি বর্গা নিয়ে প্রথমে সবজি ও ধান চাষ এবং পরবর্তীতে অক্লান্ত পরিশ্রমে একটি ছাগল কেনেন তিনি।
ছাগল বিক্রির টাকা জমিয়ে শুরু হয় সাইওয়াল জাতের গরু পালন। নিজ হাতে ঘাস কাটা, গরুর যত্ন নেওয়া এবং ছেলে নিলয় বড়ুয়াকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুধ বিক্রি করা ছিল অঞ্জনার নিত্যদিনের সংগ্রাম। স্থানীয় সনাতনী সমাজের প্রতিনিধি সুজিত বড়ুয়া ও রতন বড়ুয়ারা জানান, অঞ্জনা নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে, চরম কষ্ট সহ্য করে এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। তার শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের কারণে তিনি আজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তার সম্মাননাও লাভ করেছেন।
বর্তমানে অঞ্জনা বড়ুয়ার খামারে ১২টি উন্নত জাতের গাভী ও বাছুর রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। প্রতিদিন প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ লিটার দুধ বিক্রি করে প্রতি মাসে তার আয় এখন লক্ষাধিক টাকা। এই আয় থেকে তিনি কেবল সংসারের সচ্ছলতাই ফেরাননি, বরং স্বামীর চিকিৎসার জন্য নেওয়া সাড়ে সাত লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং নতুন জমিও ক্রয় করেছেন।
Hindus News
Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের
বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
রামু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরণ সেন জানান, অঞ্জনার অদম্য আগ্রহ ও পরিশ্রম দেখে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন ভ্যাকসিন, ওষুধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। সনাতনী সংস্কৃতির চিরন্তন মমতায় অঞ্জনা তার খামারের গরুগুলোকে লক্ষ্মী, মজনী, সুন্দরী, চঞ্চুরানী, পূর্ণিমা নামে ডাকেন, যা পশুপাখির প্রতি সনাতন ধর্মের অহিংসা ও ভালোবাসার এক পরম রূপ। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর এই মিছিলে শামিল হওয়া অঞ্জনা বড়ুয়া এখন সমাজকে বার্তা দিচ্ছেন, নারীরা যেন ঘরে বসে না থেকে নিজেদের অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত
মন্তব্য করার জন্য অনুগ্রহ করে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
মমতা আর কঠোর পরিশ্রমে ৫ হাজার থেকে ৩০ লক্ষ টাকার খামার: রামুতে এক অদম্য মায়ের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
চরম অর্থনৈতিক সংকট, স্বামীর আকস্মিক দুর্ঘটনা আর সংসারের তীব্র অভাবের মুখে দাঁড়িয়েও যে মানুষ হার মানে না, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল বড়ুয়া পাড়ার গৃহবধূ অঞ্জনা বড়ুয়া। যিনি আজ কেবল একজন সফল নারী উদ্যোক্তাই নন, বরং সনাতনী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণা। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা অঞ্জনা বড়ুয়ার খামারে আজ শোভা পাচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের গবাদিপশু। সনাতনীদের অধিকার, নারী জাগরণ এবং যেকোনো প্রান্তিক মানুষের মানবাধিকারের মূল ভিত্তিই হলো অর্থনৈতিক মুক্তি। আর সেই মুক্তির পথটি নিজ হাতে তৈরি করে দেখিয়েছেন এই কঠোর পরিশ্রমী নারী, যার এই সাফল্য আজ তুলে ধরছে "HINDUS NEWS"।
অঞ্জনা বড়ুয়ার এই সাফল্যের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৬ সালের শেষ দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার স্বামী, পেশায় নলকূপ মেকানিক নিতুপূর্ণ বড়ুয়ার শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। দীর্ঘ তিন মাস চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। স্বামীর চিকিৎসা খরচ এবং দুই শিশু সন্তানের ভরণপোষণ মেলাতে যখন অঞ্জনা হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন তার এক আত্মীয়ের দেওয়া মাত্র পাঁচ হাজার টাকাই হয়ে ওঠে তার নতুন জীবনের মূলধন। সেই পুঁজি দিয়ে জমি বর্গা নিয়ে প্রথমে সবজি ও ধান চাষ এবং পরবর্তীতে অক্লান্ত পরিশ্রমে একটি ছাগল কেনেন তিনি।
ছাগল বিক্রির টাকা জমিয়ে শুরু হয় সাইওয়াল জাতের গরু পালন। নিজ হাতে ঘাস কাটা, গরুর যত্ন নেওয়া এবং ছেলে নিলয় বড়ুয়াকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুধ বিক্রি করা ছিল অঞ্জনার নিত্যদিনের সংগ্রাম। স্থানীয় সনাতনী সমাজের প্রতিনিধি সুজিত বড়ুয়া ও রতন বড়ুয়ারা জানান, অঞ্জনা নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে, চরম কষ্ট সহ্য করে এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। তার শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের কারণে তিনি আজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তার সম্মাননাও লাভ করেছেন।
বর্তমানে অঞ্জনা বড়ুয়ার খামারে ১২টি উন্নত জাতের গাভী ও বাছুর রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। প্রতিদিন প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ লিটার দুধ বিক্রি করে প্রতি মাসে তার আয় এখন লক্ষাধিক টাকা। এই আয় থেকে তিনি কেবল সংসারের সচ্ছলতাই ফেরাননি, বরং স্বামীর চিকিৎসার জন্য নেওয়া সাড়ে সাত লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং নতুন জমিও ক্রয় করেছেন।
রামু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরণ সেন জানান, অঞ্জনার অদম্য আগ্রহ ও পরিশ্রম দেখে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন ভ্যাকসিন, ওষুধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। সনাতনী সংস্কৃতির চিরন্তন মমতায় অঞ্জনা তার খামারের গরুগুলোকে লক্ষ্মী, মজনী, সুন্দরী, চঞ্চুরানী, পূর্ণিমা নামে ডাকেন, যা পশুপাখির প্রতি সনাতন ধর্মের অহিংসা ও ভালোবাসার এক পরম রূপ। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর এই মিছিলে শামিল হওয়া অঞ্জনা বড়ুয়া এখন সমাজকে বার্তা দিচ্ছেন, নারীরা যেন ঘরে বসে না থেকে নিজেদের অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে
প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মতামত