শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ধর্ষকের মানবাধিকার বনাম পূজার পঙ্গুত্ব: বাংলাদেশের আদালত আর কতকাল অপরাধীদের ঢাল হবে?


| প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষকের মানবাধিকার বনাম পূজার পঙ্গুত্ব: বাংলাদেশের আদালত আর কতকাল অপরাধীদের ঢাল হবে?
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার আজ কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তার এক জীবন্ত এবং নির্মম প্রতিচ্ছবি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ১৪ বছরের কিশোরী পূজা দাস। আজ থেকে ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের ১৮ই অক্টোবর যখন সমগ্র বাংলার সনাতনী সমাজ মাতৃবন্দনায় মগ্ন, ঠিক তখনই মাত্র ৫ বছরের অবুঝ শিশু পূজার জীবনে নেমে এসেছিল এক মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

 প্রতিবেশী একাধিক সন্তানের জনক ও চিহ্নিত অপরাধী সাইফুল ইসলাম সেদিন নরপিশাচের রূপ ধারণ করে খেলতে থাকা পূজাকে ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ব্লেড ও সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে শিশুটির শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে অবর্ণনীয় ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এখানেই শেষ নয়, পরিচয় গোপন করতে এবং শিশুটিকে মৃত ভেবে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে একটি হলুদের ক্ষেতে ফেলে রেখে আসে।

 শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে অতিপ্রাকৃতিক বা 'জ্বীন-দেবী'র রূপ দিতে জনৈক কবিরাজকে টাকা খাইয়ে নাটক সাজানোর ঘৃণ্য অপচেষ্টাও করা হয়েছিল। এক দিন ও এক রাত নরকযন্ত্রণা সহ্য করে হলুদের ক্ষেতে পড়ে থাকার পর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পূজাকে। একজন ভ্যানচালক বাবার পক্ষে তার কলিজার টুকরোর এই অবস্থা সহ্য করা কতটা দুঃসহ, তা কোনো সভ্য সমাজের মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না।


​এই নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মূল আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে এবং নাটকের অন্যতম অংশীদার সেই কবিরাজকে বেকসুর খালাস দেয়। যেখানে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, সেখানে কেবল শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিল বলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এই রায়ে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারটি কোনোমতে সান্ত্বনা খুঁজলেও, বিচার ব্যবস্থার আসল প্রহসন মঞ্চস্থ হয় ২০২৫ সালে। মাত্র ৮ বছর ৪ মাস কারাভোগের পরই সেই নরপিশাচ সাইফুলকে আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়। 

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

কারাগার থেকে বের হয়েই খুনি যখন ভুক্তভোগী পরিবারের চোখের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে, তখন সেই আতঙ্কিত ও অসহায় পরিবারের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা ভাবলে যেকোনো বিবেকবান মানুষের রক্ত গরম হয়ে উঠতে বাধ্য। তীব্র প্রতিবাদের মুখে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে পরবর্তীতে জামিন স্থগিত করা হলেও, ততক্ষণে আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মূল আসামি সাইফুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দেশের বিচারব্যবস্থার এমন চরম ব্যর্থতা ও আইনি ফাঁকফোকরের কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মন থেকে আদালতের প্রতি আস্থা উঠে যাচ্ছে এবং মানুষ দ্রুত বিচারের দাবিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

​আজ ২০১৬ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও অসংখ্য অস্ত্রোপচারের পরেও পূজা দাস স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়নি। অস্ত্রোপচারের পরও তার মূত্রথলি চিরদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, যার কারণে সে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। এই তীব্র শারীরিক কষ্ট এবং লোকলজ্জার কারণে তার বয়স এখন ১৪ বছর হলেও সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শৈশবের সেই ক্ষত আজ তার কৈশোরকে এক জীবন্ত নরকে পরিণত করেছে। এই জনপদে একজন সংখ্যালঘু ও নারী হিসেবে জন্ম নেওয়াই যেন পূজার সবচেয়ে বড় অপরাধ।

 আমাদের দেশের আদালত অপরাধীর মানবাধিকার রক্ষা বা কঠোর শাস্তি দিলে অপরাধীর ওপর জুলুম হবে কিনা—তা নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকে, ভিকটিমের সারা জীবনের কান্না নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। "HINDUS NEWS" অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, ধর্ষণ ও এই জাতীয় মধ্যযুগীয় বর্বরতার একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি, যেখানে কোনো প্রকার জামিন বা যাবজ্জীবনের অবকাশ থাকবে না। পূজা দাসের এই পরিণতি আজ বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিত নারী ও শিশুর প্রতি হওয়া অবিচারের এক কলঙ্কজনক দলিল। এই ঘুণে ধরা বিচারিক সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলবে এবং দেশের সুরক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে আইন সংশোধন করে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধর্ষকের মানবাধিকার বনাম পূজার পঙ্গুত্ব: বাংলাদেশের আদালত আর কতকাল অপরাধীদের ঢাল হবে?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার আজ কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তার এক জীবন্ত এবং নির্মম প্রতিচ্ছবি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ১৪ বছরের কিশোরী পূজা দাস। আজ থেকে ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের ১৮ই অক্টোবর যখন সমগ্র বাংলার সনাতনী সমাজ মাতৃবন্দনায় মগ্ন, ঠিক তখনই মাত্র ৫ বছরের অবুঝ শিশু পূজার জীবনে নেমে এসেছিল এক মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

 প্রতিবেশী একাধিক সন্তানের জনক ও চিহ্নিত অপরাধী সাইফুল ইসলাম সেদিন নরপিশাচের রূপ ধারণ করে খেলতে থাকা পূজাকে ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ব্লেড ও সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে শিশুটির শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে অবর্ণনীয় ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এখানেই শেষ নয়, পরিচয় গোপন করতে এবং শিশুটিকে মৃত ভেবে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে একটি হলুদের ক্ষেতে ফেলে রেখে আসে।

 শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে অতিপ্রাকৃতিক বা 'জ্বীন-দেবী'র রূপ দিতে জনৈক কবিরাজকে টাকা খাইয়ে নাটক সাজানোর ঘৃণ্য অপচেষ্টাও করা হয়েছিল। এক দিন ও এক রাত নরকযন্ত্রণা সহ্য করে হলুদের ক্ষেতে পড়ে থাকার পর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পূজাকে। একজন ভ্যানচালক বাবার পক্ষে তার কলিজার টুকরোর এই অবস্থা সহ্য করা কতটা দুঃসহ, তা কোনো সভ্য সমাজের মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না।


​এই নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মূল আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে এবং নাটকের অন্যতম অংশীদার সেই কবিরাজকে বেকসুর খালাস দেয়। যেখানে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, সেখানে কেবল শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিল বলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এই রায়ে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারটি কোনোমতে সান্ত্বনা খুঁজলেও, বিচার ব্যবস্থার আসল প্রহসন মঞ্চস্থ হয় ২০২৫ সালে। মাত্র ৮ বছর ৪ মাস কারাভোগের পরই সেই নরপিশাচ সাইফুলকে আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়। 

কারাগার থেকে বের হয়েই খুনি যখন ভুক্তভোগী পরিবারের চোখের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে, তখন সেই আতঙ্কিত ও অসহায় পরিবারের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা ভাবলে যেকোনো বিবেকবান মানুষের রক্ত গরম হয়ে উঠতে বাধ্য। তীব্র প্রতিবাদের মুখে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে পরবর্তীতে জামিন স্থগিত করা হলেও, ততক্ষণে আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মূল আসামি সাইফুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দেশের বিচারব্যবস্থার এমন চরম ব্যর্থতা ও আইনি ফাঁকফোকরের কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মন থেকে আদালতের প্রতি আস্থা উঠে যাচ্ছে এবং মানুষ দ্রুত বিচারের দাবিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

​আজ ২০১৬ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও অসংখ্য অস্ত্রোপচারের পরেও পূজা দাস স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়নি। অস্ত্রোপচারের পরও তার মূত্রথলি চিরদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, যার কারণে সে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। এই তীব্র শারীরিক কষ্ট এবং লোকলজ্জার কারণে তার বয়স এখন ১৪ বছর হলেও সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শৈশবের সেই ক্ষত আজ তার কৈশোরকে এক জীবন্ত নরকে পরিণত করেছে। এই জনপদে একজন সংখ্যালঘু ও নারী হিসেবে জন্ম নেওয়াই যেন পূজার সবচেয়ে বড় অপরাধ।

 আমাদের দেশের আদালত অপরাধীর মানবাধিকার রক্ষা বা কঠোর শাস্তি দিলে অপরাধীর ওপর জুলুম হবে কিনা—তা নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকে, ভিকটিমের সারা জীবনের কান্না নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। "HINDUS NEWS" অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, ধর্ষণ ও এই জাতীয় মধ্যযুগীয় বর্বরতার একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি, যেখানে কোনো প্রকার জামিন বা যাবজ্জীবনের অবকাশ থাকবে না। পূজা দাসের এই পরিণতি আজ বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিত নারী ও শিশুর প্রতি হওয়া অবিচারের এক কলঙ্কজনক দলিল। এই ঘুণে ধরা বিচারিক সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলবে এবং দেশের সুরক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে আইন সংশোধন করে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ধর্ষকের মানবাধিকার বনাম পূজার পঙ্গুত্ব: বাংলাদেশের আদালত আর কতকাল অপরাধীদের ঢাল হবে?
0:00 0:00
1.0x