প্রতিবেশী একাধিক সন্তানের জনক ও চিহ্নিত অপরাধী সাইফুল ইসলাম সেদিন নরপিশাচের রূপ ধারণ করে খেলতে থাকা পূজাকে ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ব্লেড ও সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে শিশুটির শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে অবর্ণনীয় ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এখানেই শেষ নয়, পরিচয় গোপন করতে এবং শিশুটিকে মৃত ভেবে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে একটি হলুদের ক্ষেতে ফেলে রেখে আসে।
শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে অতিপ্রাকৃতিক বা 'জ্বীন-দেবী'র রূপ দিতে জনৈক কবিরাজকে টাকা খাইয়ে নাটক সাজানোর ঘৃণ্য অপচেষ্টাও করা হয়েছিল। এক দিন ও এক রাত নরকযন্ত্রণা সহ্য করে হলুদের ক্ষেতে পড়ে থাকার পর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পূজাকে। একজন ভ্যানচালক বাবার পক্ষে তার কলিজার টুকরোর এই অবস্থা সহ্য করা কতটা দুঃসহ, তা কোনো সভ্য সমাজের মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না।
কারাগার থেকে বের হয়েই খুনি যখন ভুক্তভোগী পরিবারের চোখের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে, তখন সেই আতঙ্কিত ও অসহায় পরিবারের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা ভাবলে যেকোনো বিবেকবান মানুষের রক্ত গরম হয়ে উঠতে বাধ্য। তীব্র প্রতিবাদের মুখে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে পরবর্তীতে জামিন স্থগিত করা হলেও, ততক্ষণে আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মূল আসামি সাইফুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দেশের বিচারব্যবস্থার এমন চরম ব্যর্থতা ও আইনি ফাঁকফোকরের কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মন থেকে আদালতের প্রতি আস্থা উঠে যাচ্ছে এবং মানুষ দ্রুত বিচারের দাবিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
আজ ২০১৬ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও অসংখ্য অস্ত্রোপচারের পরেও পূজা দাস স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়নি। অস্ত্রোপচারের পরও তার মূত্রথলি চিরদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, যার কারণে সে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। এই তীব্র শারীরিক কষ্ট এবং লোকলজ্জার কারণে তার বয়স এখন ১৪ বছর হলেও সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শৈশবের সেই ক্ষত আজ তার কৈশোরকে এক জীবন্ত নরকে পরিণত করেছে। এই জনপদে একজন সংখ্যালঘু ও নারী হিসেবে জন্ম নেওয়াই যেন পূজার সবচেয়ে বড় অপরাধ।
আমাদের দেশের আদালত অপরাধীর মানবাধিকার রক্ষা বা কঠোর শাস্তি দিলে অপরাধীর ওপর জুলুম হবে কিনা—তা নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকে, ভিকটিমের সারা জীবনের কান্না নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। "HINDUS NEWS" অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, ধর্ষণ ও এই জাতীয় মধ্যযুগীয় বর্বরতার একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি, যেখানে কোনো প্রকার জামিন বা যাবজ্জীবনের অবকাশ থাকবে না। পূজা দাসের এই পরিণতি আজ বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিত নারী ও শিশুর প্রতি হওয়া অবিচারের এক কলঙ্কজনক দলিল। এই ঘুণে ধরা বিচারিক সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলবে এবং দেশের সুরক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে আইন সংশোধন করে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
মতামত