পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠী গ্রামের দাসনগর এলাকার অসহায় তিন প্রতিবন্ধী সহোদরের করুণ জীবনসংগ্রামের সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে সাধারণ মানুষ, সনাতনী সমাজ এবং উপজেলা প্রশাসন।
সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


জানা গেছে, জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী তিন ভাই— রিপন দাস, সাধন দাস ও নিদু দাস দীর্ঘদিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তাদের মধ্যে সাধন দাস দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অপর দুই ভাই রিপন ও নিদু বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। গত বছর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি রতন চন্দ্র দাস মারা যান। এরপর দীর্ঘদিন লিভার ও হৃদরোগে ভোগার পর সম্প্রতি মারা যান তাদের মা। ফলে সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে পরিবারটি।
অসহায় তিন ভাইয়ের জীবনসংগ্রামের সংবাদ HindusNews–এ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেক মানবিক মানুষ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি বাউফল উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।
শনিবার দুপুরে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ তিন সহোদরকে উপজেলা প্রশাসন ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাদের হাতে ৫০ কেজি চাল ও ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ জানান, সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে তিন ভাইকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা যেন নিয়মিত ভাতা পান, সেটিও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের সহায়তায় তাদের জন্য ১০ হাজার টাকা ও ৫০ কেজি চালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন অসহায় তিন প্রতিবন্ধী সহোদরের স্থায়ী খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

মতামত