সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় খগেন্দ্র কুমার দাস নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ তুলে গণপিটুনি, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে শিশুর সঙ্গে কোনো ধরনের শ্লীলতাহানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফুটেজে দেখা যায়, খগেন্দ্র কুমার দাস শিশুটিকে পিতৃসুলভ স্নেহে সহযোগিতা করছেন। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
খগেন্দ্র কুমার দাস অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি চাঁদা প্রদানের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানোয় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তিনি বলেন, “আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং ব্যবসা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে শিশুকে কেন্দ্র করে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে জনতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে।”

এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে কাউকে গণপিটুনি দেওয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো এবং লুটপাট করা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে মহানগর বিএনপির নেতা এমদাদ চৌধুরীও হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যবসায়ীর খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনতাকে উসকে দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মতামত