মূল বিরোধের সূত্রপাত ঘটে যখন পালিত পরিবার সিডিএ (CDA)-এর কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরের প্রধান চলাচলের রাস্তা ও আঙ্গিনা অবরুদ্ধ করে অবৈধভাবে স্থাপনা সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করে। এতে সাধারণ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মন্দিরে যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই বেআইনি রাস্তা বন্ধের বিরুদ্ধে ইসকন কর্তৃপক্ষ আগেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রশাসন উভয় পক্ষকে ডেকে আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। আইন ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসকন সাধুরা শান্ত থাকলেও, পালিত পরিবার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ইট ও নির্মাণ সামগ্রী মন্দিরে ঢোকানোর চেষ্টা চালায়। এতে মন্দিরের ব্রহ্মচারীরা বাধা দিলে সৌমেন পালিত ও তার স্ত্রী উল্টো সাধু-পূজারীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করতে তেড়ে আসেন। নিজেদের এই অপরাধ ঢাকতে এবং মন্দিরের জায়গা দখলের অসৎ উদ্দেশ্যে তারা সাধুদের ওপর চড়াও হওয়ার অংশটুকুকে কৌশলে বাদ দিয়ে একটি খণ্ডিত ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে "নারী নির্যাতন" নাম দিয়ে অপপ্রচার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার রেশ ধরে আরও এক বর্বরোচিত অধ্যায়ের সূচনা ঘটে, যখন মন্দিরে ভক্তরা শান্তিময় পরিবেশে কীর্তন করছিলেন। ঠিক সেই সময় ওপর থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী অন্যায় ও কাপুরুষোচিতভাবে জানালার গ্রিল ভেঙে এবং ছাদ থেকে একের পর এক ইট, পাথর এবং মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারতে শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন সাধু ও ভক্ত গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, ন্যায্যতার প্রশ্নে সকল মত-পথের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাদের সমর্থন থাকবে। তবে কেউ অন্যায় করলে তার পাশে থাকার সুযোগ নেই। সনাতনী সম্প্রদায় সর্বদা সত্যের পক্ষেই থাকবে, কারণ আমাদের বেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে— ‘সত্যমেব জয়তে’। পবিত্র দেবালয় ও সনাতনীদের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষায় এই ধরণের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে দেশের সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছে এই কাপুরুষোচিত হামলার মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়।
মতামত