শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র: অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচন


| প্রিন্ট সংস্করণ

নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র: অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচন
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব ইসকন মন্দিরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম শ্রদ্ধেয় সাধু ও ব্রহ্মচারীদের বিরুদ্ধে "উচ্ছেদ ও নারী নির্যাতনের" যে খণ্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। মূলত সনাতনী ভাবাবেগকে পুঁজি করে দেবোত্তর সম্পত্তি গ্রাস করা এবং আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।


​অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এই ঐতিহাসিক ভবন ও শ্রীশ্রী রাধামাধব বিগ্রহের মূল মালিক ছিলেন চট্টগ্রামের অভিজাত সনাতনী 'এন পাল' (ভারতী পাল) পরিবার। তাদের পরম ইচ্ছাতেই ১৯৮০ সালে বিগ্রহের সেবা, তত্ত্বাবধান এবং এই সম্পত্তির সম্পূর্ণ দখল ও মালিকানা স্বত্ব ইসকনের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বিগত দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে ইসকন অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এখানে নিয়মিত সেবা-পূজা, রথযাত্রাসহ সনাতন ধর্মের বিভিন্ন উৎসব পরিচালনা করে আসছে। এমনকি সম্প্রতি শেফালী ঘোষের পরিবারের পক্ষ থেকেও স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ইসকন কোনো সম্পত্তি দখল করেনি, বরং তারা নিজেরা সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন এবং এই সম্পদের প্রকৃত ও আইনি মালিক ইসকন কর্তৃপক্ষই।

​মূল বিরোধের সূত্রপাত ঘটে যখন পালিত পরিবার সিডিএ (CDA)-এর কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরের প্রধান চলাচলের রাস্তা ও আঙ্গিনা অবরুদ্ধ করে অবৈধভাবে স্থাপনা সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করে। এতে সাধারণ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মন্দিরে যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই বেআইনি রাস্তা বন্ধের বিরুদ্ধে ইসকন কর্তৃপক্ষ আগেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রশাসন উভয় পক্ষকে ডেকে আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। আইন ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসকন সাধুরা শান্ত থাকলেও, পালিত পরিবার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ইট ও নির্মাণ সামগ্রী মন্দিরে ঢোকানোর চেষ্টা চালায়। এতে মন্দিরের ব্রহ্মচারীরা বাধা দিলে সৌমেন পালিত ও তার স্ত্রী উল্টো সাধু-পূজারীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করতে তেড়ে আসেন। নিজেদের এই অপরাধ ঢাকতে এবং মন্দিরের জায়গা দখলের অসৎ উদ্দেশ্যে তারা সাধুদের ওপর চড়াও হওয়ার অংশটুকুকে কৌশলে বাদ দিয়ে একটি খণ্ডিত ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে "নারী নির্যাতন" নাম দিয়ে অপপ্রচার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

​এই ঘটনার রেশ ধরে আরও এক বর্বরোচিত অধ্যায়ের সূচনা ঘটে, যখন মন্দিরে ভক্তরা শান্তিময় পরিবেশে কীর্তন করছিলেন। ঠিক সেই সময় ওপর থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী অন্যায় ও কাপুরুষোচিতভাবে জানালার গ্রিল ভেঙে এবং ছাদ থেকে একের পর এক ইট, পাথর এবং মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারতে শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন সাধু ও ভক্ত গুরুতর আহত হয়েছেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, ন্যায্যতার প্রশ্নে সকল মত-পথের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাদের সমর্থন থাকবে। তবে কেউ অন্যায় করলে তার পাশে থাকার সুযোগ নেই। সনাতনী সম্প্রদায় সর্বদা সত্যের পক্ষেই থাকবে, কারণ আমাদের বেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে— ‘সত্যমেব জয়তে’। পবিত্র দেবালয় ও সনাতনীদের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষায় এই ধরণের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে দেশের সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছে এই কাপুরুষোচিত হামলার মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র: অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব ইসকন মন্দিরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম শ্রদ্ধেয় সাধু ও ব্রহ্মচারীদের বিরুদ্ধে "উচ্ছেদ ও নারী নির্যাতনের" যে খণ্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। মূলত সনাতনী ভাবাবেগকে পুঁজি করে দেবোত্তর সম্পত্তি গ্রাস করা এবং আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।


​অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এই ঐতিহাসিক ভবন ও শ্রীশ্রী রাধামাধব বিগ্রহের মূল মালিক ছিলেন চট্টগ্রামের অভিজাত সনাতনী 'এন পাল' (ভারতী পাল) পরিবার। তাদের পরম ইচ্ছাতেই ১৯৮০ সালে বিগ্রহের সেবা, তত্ত্বাবধান এবং এই সম্পত্তির সম্পূর্ণ দখল ও মালিকানা স্বত্ব ইসকনের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বিগত দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে ইসকন অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এখানে নিয়মিত সেবা-পূজা, রথযাত্রাসহ সনাতন ধর্মের বিভিন্ন উৎসব পরিচালনা করে আসছে। এমনকি সম্প্রতি শেফালী ঘোষের পরিবারের পক্ষ থেকেও স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ইসকন কোনো সম্পত্তি দখল করেনি, বরং তারা নিজেরা সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন এবং এই সম্পদের প্রকৃত ও আইনি মালিক ইসকন কর্তৃপক্ষই।

​মূল বিরোধের সূত্রপাত ঘটে যখন পালিত পরিবার সিডিএ (CDA)-এর কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরের প্রধান চলাচলের রাস্তা ও আঙ্গিনা অবরুদ্ধ করে অবৈধভাবে স্থাপনা সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করে। এতে সাধারণ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মন্দিরে যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই বেআইনি রাস্তা বন্ধের বিরুদ্ধে ইসকন কর্তৃপক্ষ আগেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রশাসন উভয় পক্ষকে ডেকে আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। আইন ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসকন সাধুরা শান্ত থাকলেও, পালিত পরিবার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ইট ও নির্মাণ সামগ্রী মন্দিরে ঢোকানোর চেষ্টা চালায়। এতে মন্দিরের ব্রহ্মচারীরা বাধা দিলে সৌমেন পালিত ও তার স্ত্রী উল্টো সাধু-পূজারীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করতে তেড়ে আসেন। নিজেদের এই অপরাধ ঢাকতে এবং মন্দিরের জায়গা দখলের অসৎ উদ্দেশ্যে তারা সাধুদের ওপর চড়াও হওয়ার অংশটুকুকে কৌশলে বাদ দিয়ে একটি খণ্ডিত ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে "নারী নির্যাতন" নাম দিয়ে অপপ্রচার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

​এই ঘটনার রেশ ধরে আরও এক বর্বরোচিত অধ্যায়ের সূচনা ঘটে, যখন মন্দিরে ভক্তরা শান্তিময় পরিবেশে কীর্তন করছিলেন। ঠিক সেই সময় ওপর থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী অন্যায় ও কাপুরুষোচিতভাবে জানালার গ্রিল ভেঙে এবং ছাদ থেকে একের পর এক ইট, পাথর এবং মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারতে শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন সাধু ও ভক্ত গুরুতর আহত হয়েছেন।

​এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, ন্যায্যতার প্রশ্নে সকল মত-পথের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাদের সমর্থন থাকবে। তবে কেউ অন্যায় করলে তার পাশে থাকার সুযোগ নেই। সনাতনী সম্প্রদায় সর্বদা সত্যের পক্ষেই থাকবে, কারণ আমাদের বেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে— ‘সত্যমেব জয়তে’। পবিত্র দেবালয় ও সনাতনীদের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষায় এই ধরণের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে দেশের সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছে এই কাপুরুষোচিত হামলার মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র: অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচন
0:00 0:00
1.0x