এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহত কলেজছাত্রীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ভূমিকা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পরিবারের সবার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিকভাবে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও একজন সনাতনী নারীর এভাবে ঝরে পড়া এবং একটি অনাগত প্রাণের অকালমৃত্যু আমাদের মানবাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
নেছারাবাদে অন্তঃসত্ত্বা সনাতনী ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার!
পিরোজপুরের নেছারাবাদে স্বামীর ওপর অভিমান করে জয়িতা মন্ডল (২১) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা সনাতনী কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (০৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মাত্র পাঁচ মাস আগে একই ইউনিয়নের শশীদ গ্রামের অমল মন্ডলের ছেলে অসীম মন্ডলের সঙ্গে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল জয়িতার। নিহত জয়িতা ওই গ্রামের পরিতোষ মন্ডলের মেয়ে এবং তিনি এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, অকালপ্রয়াত এই সনাতনী কন্যা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভের সন্তানসহ এক তরুণী গৃহবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয় সনাতনী সমাজসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে জয়িতা মোবাইল ফোনে তার স্বামী অসীম মন্ডলের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে স্বামীর কোনো একটি বিষয়ে তার তীব্র অভিমান হয়। এর কিছুক্ষণ পর জয়িতার মা গোসল শেষ করে ফিরে আসেন এবং দুপুরের খাবারের জন্য ছোট ছেলে গোপালকে দিয়ে জয়িতাকে ডাকতে পাঠান। দীর্ঘ সময় ঘরে জয়িতাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা ঘরের পাটাতনে উঠে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জয়িতার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত