শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

সাত দশকের বন্ধন ভাঙতে পারল না মৃত্যুও: ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর চিতার সহযাত্রী হলেন স্ত্রী


| প্রিন্ট সংস্করণ

সাত দশকের বন্ধন ভাঙতে পারল না মৃত্যুও: ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর চিতার সহযাত্রী হলেন স্ত্রী
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সংসার জীবনের সাতটি দশক পার করেছিলেন একে অপরের হাত ধরে। সুখে-দুঃখে, হাসিকান্নায় তাঁরা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। অবশেষে অনন্তকালের যাত্রাতেও তাঁরা একে অপরকে ছেড়ে গেলেন না। মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে চিরতরে বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার এক প্রবীণ সনাতনী দম্পতি। বার্ধক্যজনিত কারণে প্রথমে স্বামী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, আর সেই শোক সহ্য করতে না পেরে মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তাঁর সহধর্মিণী। জীবন ও মৃত্যুর এই অদ্ভুত সমীকরণ এবং দম্পতির এমন অবিনশ্বর প্রেম দেখে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অশ্রুসিক্ত নয়নে গ্রামবাসীরা বলছেন, ইহলোকে যেমন তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন, পরলোকেও তেমনি একসাথেই পাড়ি জমালেন।


​আজ ১৫ জুন (তথ্যসূত্র: ১৪ জুন) সকালে রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় পরাবাড়ি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত দম্পতি হলেন ৯০ বছর বয়সী নগেন চন্দ্র এবং তাঁর ৭৮ বছর বয়সী স্ত্রী সিঞ্জো বালা। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগেন চন্দ্র ও সিঞ্জো বালার দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় সত্তর বছর। দীর্ঘ এই সংসার জীবনে তাঁদের কোল আলো করে এসেছে দুটি পুত্র ও চারটি কন্যা সন্তান। সনাতন ধর্মের চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার এক অনন্য প্রতীক ছিলেন এই দম্পতি। গ্রামবাসীদের মতে, দীর্ঘ সাত দশকের বিবাহিত জীবনে কেউ কখনো তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকার ঝগড়া বা বিবাদ হতে দেখেননি। তাঁরা সবসময় একে অপরের ছায়া হয়ে পাশে থেকেছেন, যা বর্তমান সমাজে বিরল এবং অনুকরণীয়। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবীণ নগেন চন্দ্র গত কয়েক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। আজ ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাত দশকের জীবনসঙ্গীর আকস্মিক এই মহাপ্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না স্ত্রী সিঞ্জো বালা। স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসেই তিনি বারবার মূর্ছা যেতে থাকেন। তীব্র শোক ও মানসিক আঘাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঠিক এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ৬টার দিকে তিনিও পরলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সনাতন সংস্কৃতির আদর্শে বিশ্বাসী এই দম্পতির এমন প্রয়াণকে স্থানীয়রা ঈশ্বরের এক অলৌকিক বিধান এবং পবিত্র ভালোবাসার চূড়ান্ত নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। এরপর বিকেলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী নাগর নদীর চরে ধর্মীয় রীতি মেনে একই সাথে তাঁদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অশ্রুভেজা চোখে আত্মীয়-স্বজন ও শত শত গ্রামবাসী এই পুণ্যময় দম্পতিকে শেষ বিদায় জানান।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাত দশকের বন্ধন ভাঙতে পারল না মৃত্যুও: ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর চিতার সহযাত্রী হলেন স্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image
সংসার জীবনের সাতটি দশক পার করেছিলেন একে অপরের হাত ধরে। সুখে-দুঃখে, হাসিকান্নায় তাঁরা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। অবশেষে অনন্তকালের যাত্রাতেও তাঁরা একে অপরকে ছেড়ে গেলেন না। মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে চিরতরে বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার এক প্রবীণ সনাতনী দম্পতি। বার্ধক্যজনিত কারণে প্রথমে স্বামী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, আর সেই শোক সহ্য করতে না পেরে মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তাঁর সহধর্মিণী। জীবন ও মৃত্যুর এই অদ্ভুত সমীকরণ এবং দম্পতির এমন অবিনশ্বর প্রেম দেখে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অশ্রুসিক্ত নয়নে গ্রামবাসীরা বলছেন, ইহলোকে যেমন তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন, পরলোকেও তেমনি একসাথেই পাড়ি জমালেন।


​আজ ১৫ জুন (তথ্যসূত্র: ১৪ জুন) সকালে রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় পরাবাড়ি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত দম্পতি হলেন ৯০ বছর বয়সী নগেন চন্দ্র এবং তাঁর ৭৮ বছর বয়সী স্ত্রী সিঞ্জো বালা। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগেন চন্দ্র ও সিঞ্জো বালার দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় সত্তর বছর। দীর্ঘ এই সংসার জীবনে তাঁদের কোল আলো করে এসেছে দুটি পুত্র ও চারটি কন্যা সন্তান। সনাতন ধর্মের চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার এক অনন্য প্রতীক ছিলেন এই দম্পতি। গ্রামবাসীদের মতে, দীর্ঘ সাত দশকের বিবাহিত জীবনে কেউ কখনো তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকার ঝগড়া বা বিবাদ হতে দেখেননি। তাঁরা সবসময় একে অপরের ছায়া হয়ে পাশে থেকেছেন, যা বর্তমান সমাজে বিরল এবং অনুকরণীয়। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবীণ নগেন চন্দ্র গত কয়েক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। আজ ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাত দশকের জীবনসঙ্গীর আকস্মিক এই মহাপ্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না স্ত্রী সিঞ্জো বালা। স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসেই তিনি বারবার মূর্ছা যেতে থাকেন। তীব্র শোক ও মানসিক আঘাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঠিক এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ৬টার দিকে তিনিও পরলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সনাতন সংস্কৃতির আদর্শে বিশ্বাসী এই দম্পতির এমন প্রয়াণকে স্থানীয়রা ঈশ্বরের এক অলৌকিক বিধান এবং পবিত্র ভালোবাসার চূড়ান্ত নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। এরপর বিকেলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী নাগর নদীর চরে ধর্মীয় রীতি মেনে একই সাথে তাঁদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অশ্রুভেজা চোখে আত্মীয়-স্বজন ও শত শত গ্রামবাসী এই পুণ্যময় দম্পতিকে শেষ বিদায় জানান।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সাত দশকের বন্ধন ভাঙতে পারল না মৃত্যুও: ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর চিতার সহযাত্রী হলেন স্ত্রী
0:00 0:00
1.0x