ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে মহাদেবের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ জুন বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা মন্দিরে প্রবেশ না করেই গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাঁশ বা লাঠি ঢুকিয়ে ভেতরে থাকা শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরটি পাকা ভিত ও দেয়ালঘেরা এবং চারচালা টিনের ছাউনি দ্বারা নির্মিত। মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য সামনের অংশে গ্রিল থাকলেও দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে সেই গ্রিলের ফাঁক ব্যবহার করে মূর্তির মাথা ভাঙচুর করে।
১৮ জুন বৃহস্পতিবার ভোরে মন্দিরের পূজারী বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস পূজা দিতে এসে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি প্রথম দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দির কমিটি ও স্থানীয়দের অবহিত করেন। খবর পেয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও গত সোমবার দিবাগত রাতে একই এলাকার বামুন্দী বাজারের একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে ওই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। বামুন্দী বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা জানা না থাকায় মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়েছে।
পরপর দুই দিনে একই এলাকায় দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় উপাসনালয় ও আরাধ্য দেব-দেবীর প্রতিমার ওপর এ ধরনের হামলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।
এদিকে প্রথম ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, প্রথম ঘটনার পর পুলিশকে অবহিত করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে দ্রুত প্রতিমা বিসর্জনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায়।
ওসি শুকদেব রায় বলেন, “আমি ঘটনা চেপে যেতে বলব কেন? কেন মামলা নেব না? বাজারের মন্দিরের ঘটনায় এখনো মামলা করার আইনি সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মতামত