চট্টগ্রামের পটিয়ার আলোচিত পঙ্কজ শীল (৩২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুর রহমান ও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বোরকা পরিহিত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।


সেখান থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। বুধবার (১৭ জুন) গভীর রাতে পটিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ অভিযান টেকনাফে পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ পূর্ব এলাহাবাদ এলাকা থেকে ফাতেমা বেগম (১৯) নামে এক নারীকে আটক করা হয়।

পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেন মিলন শীলের ছেলে পঙ্কজ শীল। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। আসামি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত টেকনাফে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
নিহত পঙ্কজ শীলের মা ঝিনু শ্রী শীল বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাই। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

মতামত