গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভগবান রামকে অবমাননার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাত্রাবাড়ী মাঠে প্রস্তাবিত রামমূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ২৯ জুন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে "ধামরাই উপজেলা ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামপ্রিয় সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা" পরিচয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে যাত্রাবাড়ী মাঠে প্রস্তাবিত মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ, বিষয়টি তদন্ত এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। পাশাপাশি মাঠটিকে উন্মুক্ত গণমাঠ হিসেবে সংরক্ষণ, মেলা পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং ইসকন (ISKCON)-এর কার্যক্রম নিয়েও দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বারবার আপত্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক।
অনেকের মতে, যদি কোনো ধর্মীয় স্থাপনা বা প্রতীক নির্মাণ আইনানুগভাবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য বা চাপ সৃষ্টি না করে প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


"একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনা বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বারবার আপত্তি তোলা বন্ধ হওয়া উচিত।"
"বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের। সকলের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"
"ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার হাতিয়ার না বানিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হোক।"
এদিকে ধামরাইয়ের ঘটনায় বিভিন্ন সনাতনী সংগঠন ও সাধারণ হিন্দু নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন যে, ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে শান্তি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি। অনেকেই প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত