একটি সম্ভাবনাময় সনাতনী প্রাণের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক চলে যাওয়া মানবাধিকার এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার প্রশ্নে এক বড় ধাক্কা। রামকৃষ্ণ মিশনের মতো পবিত্র ও সুরক্ষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন ছাত্রের এভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দীপ্তাংশুর এই অকাল মৃত্যুতে তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আজ বাকরুদ্ধ, কথা বলার সমস্ত শক্তি হারিয়ে তারা আজ নিথর। যে বাড়িতে আনন্দের জোয়ার থাকার কথা ছিল, সেখানে আজ শুধুই কান্নার রোল আর শ্মশানের নীরবতা। একজন প্রতিভাবান ও ফুটবল অনুরাগী সনাতনী ছাত্রের এভাবে চিরঘুমে চলে যাওয়া সমাজ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
গরম চা পানের পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু, বাকরুদ্ধ গোটা পরিবার
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব, ঠিক তখনই এক বুক স্বপ্ন আর ফুটবলপ্রেম বুকে নিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল সনাতন সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শুধু তার পরিবারই নয়, স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এবং চনমনে স্বভাবের এই সনাতনী তরুণের এমন অকাল প্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা। রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শে বেড়ে ওঠা এই শান্ত স্বভাবের ছেলেটি ছিল ফুটবলের অন্ধ ভক্ত, বিশেষ করে ব্রাজিলের খেলা এবং তারকা ফুটবলার নেইমারের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল আকাশচুম্বী।
পড়াশোনার কঠোর নিয়মের কারণে স্কুল চলাকালীন নিয়মিত প্রিয় দলের খেলা দেখার সুযোগ হয়ে উঠত না দীপ্তাংশুর। আগামী ৩ জুলাই স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরে প্রাণভরে ব্রাজিলের খেলা দেখবে—এই আনন্দেই দিন গুনছিল সে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই প্রিয় দলের খেলা আর দেখা হলো না তার। ফুটবল মাঠে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ ঝড় দেখার আগেই জীবনের মাঠ থেকে চিরদিনের মতো বিদায় নিল এই তরুণ। গত মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীন সময়েই ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, একটি ফ্লাস্ক থেকে সরাসরি অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে ফেলার পর থেকেই দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত