সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরে ভগবান শ্রীরামের মূর্তিকে কেন্দ্র করে গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে পলাশবাড়ী চৌরাস্তার মোড়ে ‘তৌহিদি জনতা’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে জুতা প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও জানান, এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস কয়েক বছর আগে কুলা-চালুন বিক্রি করতেন। তারা আরও দাবি করেন, বর্তমানে তার বাবা রসুলপুর ইউনিয়ন-এর আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করেন এবং তার দুই ভাই ভারতে দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বক্তাদের অভিযোগ, এত কিছুর পরও শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের উদ্ধত আচরণ ও বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা গাইবান্ধা জেলার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরটি সনাতনী সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উপাসনালয়। মন্দিরটির সুষ্ঠু পরিচালনা এবং পূজা-পার্বণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার স্বার্থে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পরিচালনা বোর্ড গঠনের আহ্বান জানান তারা।
এছাড়া বক্তাদের দাবি, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে উদ্ধত বক্তব্য দিচ্ছেন, যা গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বক্তারা সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
মতামত