বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে জুন ২০২৬ মাসের তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে ‘সমিধ’। ‘সংখ্যালঘু নিপীড়ন সম্পর্কিত তথ্যপত্র’-এর ষষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মোট ৭৭টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২টি, সন্ত্রাসী হামলা ১২টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা ৭টি, চাঁদাবাজি ৫টি, চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ৪টি, ধর্ষণের ঘটনা ২টি, অপহরণ ৪টি, মন্দির ভাঙচুর ৩টি, জমি দখল ৫টি এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু করে হয়রানি ও সহিংসতার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলা, শারীরিক নির্যাতন, জমি দখল, ভীতি প্রদর্শন এবং গ্রামীণ এলাকায় জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির চেষ্টা।
প্রতিবেদনটির মূল অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি চলমান ও ব্যাপক সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে। দুর্বল আইন প্রয়োগ, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক অসহায়ত্ব এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং কেউ কেউ স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। এর ফলে তাদের ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার করা এবং নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে।
‘সমিধ’-এর এ তথ্যপত্র সম্পাদনা করেছেন প্রসেনজিৎ কুমার হালদার। তথ্য বিশ্লেষণ ও নকশায় ছিলেন নেরব সরকার এবং সম্পাদনায় সহযোগিতা করেছেন দেবব্রত সরকার। প্রতিবেদনটি সনাতনী রিসার্চ অ্যান্ড আইটি লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ করা হয়েছে।
মতামত