শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

মহাদেবপুরে শ্মশানে সৎকারে বাধার অভিযোগ, বিক্ষোভের পর গজেন ঋষির শেষকৃত্য


| প্রিন্ট সংস্করণ

মহাদেবপুরে শ্মশানে সৎকারে বাধার অভিযোগ, বিক্ষোভের পর গজেন ঋষির শেষকৃত্য
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নে একটি পুরোনো শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বৈকুণ্ঠপুর মড়াপুকুর এলাকার শ্মশানে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মৃত ব্যক্তি গজেন ঋষি (৬৫)। তিনি ভীমপুর ইউনিয়নের খোদ্দনারায়ণপুর ঋষিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গজেন ঋষির মরদেহ সৎকারের জন্য স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বৈকুণ্ঠপুর মড়াপুকুর শ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে শ্মশানের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় মরদেহ সৎকার নিয়ে বাধার সৃষ্টি হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সেখানে বিক্ষোভ করেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

নিহতের ছেলে সন্তোষ ঋষির অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি সৎকারে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে দুপুরের দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে শ্মশানের চুল্লি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে গজেন ঋষির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা কান্চু পাহান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মরদেহ সৎকার হয়ে আসছে। তার দাবি, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে শ্মশানটি ব্যবহার করে আসছেন। তবে বর্তমানে শ্মশানটির ব্যবস্থাপনা ও নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি শ্মশানটির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।

এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, শ্মশানটির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতা নেই। এ কারণে মরদেহ সৎকারের সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনার পর আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত গজেন ঋষির সৎকার সম্পন্ন হয়।

তবে শ্মশানে সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শ্মশান ব্যবহারের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন পাঁচ গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মহাদেবপুরে শ্মশানে সৎকারে বাধার অভিযোগ, বিক্ষোভের পর গজেন ঋষির শেষকৃত্য

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নে একটি পুরোনো শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বৈকুণ্ঠপুর মড়াপুকুর এলাকার শ্মশানে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মৃত ব্যক্তি গজেন ঋষি (৬৫)। তিনি ভীমপুর ইউনিয়নের খোদ্দনারায়ণপুর ঋষিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গজেন ঋষির মরদেহ সৎকারের জন্য স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বৈকুণ্ঠপুর মড়াপুকুর শ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে শ্মশানের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় মরদেহ সৎকার নিয়ে বাধার সৃষ্টি হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সেখানে বিক্ষোভ করেন।

নিহতের ছেলে সন্তোষ ঋষির অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি সৎকারে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে দুপুরের দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে শ্মশানের চুল্লি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে গজেন ঋষির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা কান্চু পাহান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মরদেহ সৎকার হয়ে আসছে। তার দাবি, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে শ্মশানটি ব্যবহার করে আসছেন। তবে বর্তমানে শ্মশানটির ব্যবস্থাপনা ও নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি শ্মশানটির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।

এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, শ্মশানটির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতা নেই। এ কারণে মরদেহ সৎকারের সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনার পর আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত গজেন ঋষির সৎকার সম্পন্ন হয়।

তবে শ্মশানে সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শ্মশান ব্যবহারের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন পাঁচ গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মহাদেবপুরে শ্মশানে সৎকারে বাধার অভিযোগ, বিক্ষোভের পর গজেন ঋষির শেষকৃত্য
0:00 0:00
1.0x