মানিকগঞ্জে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ৭২ বছর বয়সী এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলেকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সোনা, রুপা ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। হামলার সময় তাঁদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা এক প্রতিবেশীকেও মারধর করে আহত করা হয়। পরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শানবান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম পতিত পবন শীল (৭২)। তিনি তাঁর ছেলে প্রবীর কুমার শীলকে (৩২) সঙ্গে নিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চার দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা লোহার রড দিয়ে বাবা ও ছেলের মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তারা। ওই ব্যাগে প্রায় ৬০ ভরি রুপা, দুই আনা সোনা এবং নগদ ৮৫ হাজার টাকা ছিল বলে জানা গেছে।
এ সময় বাবা-ছেলের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মনোরঞ্জন পাল (৫০) ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও লোহার রড দিয়ে মারধর করে আহত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আহত পতিত পবন শীল, তাঁর ছেলে প্রবীর কুমার শীল ও প্রতিবেশী মনোরঞ্জন পালকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত পতিত পবন শীলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর ছেলে প্রবীর কুমার শীল ও মনোরঞ্জন পালকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর লুট হওয়া সোনা, রুপা ও নগদ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে লুট হওয়া মালামালের সঠিক মূল্য এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মতামত