তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে এমন মানবতাবিরোধী অবহেলা সহ্য করা হবে না। একইসাথে দেশের সকল অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সাক্ষাতে ভুক্তভোগী পরিবার কেবল আশ্বাস নয়, অভিযুক্তদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে আর কোনো নাগরিককে এভাবে চিকিৎসকদের অবহেলায় অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।
পেটে গজ রেখে প্রসূতি সেলাইয়ের ঘটনা: স্বজনহারা পরিবারের পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মাতৃহারা শিশুর দায়িত্ব নিল সরকার
ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতি কণিকা মণ্ডলের পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা খাতের মারাত্মক অবহেলা এবং মানব অধিকারের চরম লঙ্ঘনের শিকার হওয়া নিহত এই সনাতনী প্রসূতি নারীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে স্বজনহারা পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে সশরীরে উপস্থিত হন মন্ত্রী। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং মাতৃহারা নিষ্পাপ নবজাতকের পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। স্থানীয় সনাতন সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, এ ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত কণিকা মণ্ডলের পরিবারের আহাজারিতে পুরো বাঘুটিয়া গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, যেখানে জীবনের সুরক্ষার বদলে চরম দায়িত্বহীনতার শিকার হতে হয়েছে এক নিরপরাধ প্রসূতিকে। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন অভিযুক্ত চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের অধীনে সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকেই যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন কণিকা মণ্ডল। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ঢাকায় এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেট থেকে প্রায় দেড় কেজি গজ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৫২ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চিরবিদায় নেন তিনি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত চিকিৎসক নিহতের স্বামীকে একটি বার্তা পাঠিয়ে 'ভুল মানুষেরই হয়' বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত