রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বয়ান নিয়ে তীব্র বিতর্ক, ক্ষোভ ও নাগরিক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক ও সনাতনী সমাজের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে অধিকতর নিরপেক্ষ তদন্তের প্রবল দাবি ওঠার পর অবশেষে মামলার তদন্তভার স্থানান্তর করা হয়েছে। রংপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাত থেকে মামলাটি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, অধিকতর স্বচ্ছ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত ডিবির নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পর দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যৌথভাবে পরিদর্শনে যান এবং পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা মামলার যাবতীয় খুঁটিনাটি নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
এর আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন যে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এবং ১২ বছরের শিশুসন্তান আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া এই অদ্ভুত বিবরণী প্রকাশের পর থেকেই সনাতনী সমাজ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সোচ্চার নাগরিক সমাজের মাঝে নানা গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। শিক্ষক পরিবারের পাশে একটি নিরাপদ ফাঁকা ছাদ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর ছাদেই মাদক সেবন করতে গেল, সেই সাথে ঘটনার সময় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা, দীর্ঘ সময় ধরে খুনিদের অবস্থান এবং ১২ বছরের অবোধ ঘুমন্ত শিশু প্রিয়মকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রকৃত নেপথ্য কারণ নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের পক্ষেও এককভাবে এমন ভয়াবহ অপরাধ সংঘটন সম্ভব কি না তা নিয়ে স্বজন ও অধিকারকর্মীরা জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নিয়মিত ধর্মীয়-সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত শ্রদ্ধেয় গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের এই করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এতে সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। ডিবি পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত কারণ ও আড়ালের মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
মতামত