বাংলাদেশে সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও সংখ্যালঘুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারা বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে, যা কোনো সুনির্দিষ্ট বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়নি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অপরাধীদের শাস্তি না হওয়া এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই বিচারহীনতার এই দীর্ঘ সংস্কৃতি লালিত হয়ে আসছে।
অনুরূপ আরেক বিভীষিকাময় ও নৃশংসতম ঘটনা ঘটেছিল ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের শীলপাড়া গ্রামে। সেদিন মাঝরাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় গোটা বাড়িসুদ্ধ আগুন দিয়ে একই পরিবারের ১১ জন নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৭০ বছর বয়সী তেজেন্দ্র লাল শীল, তাঁর স্ত্রী বকুল শীল (৬০), ছেলে অনিল শীল (৪০), অনিলের স্ত্রী স্মৃতি শীল (৩২), অনিলের তিন শিশুসন্তান রুমি শীল (১২), সোনিয়া শীল (৭) ও মাত্র চারদিন বয়সী অবুঝ শিশু কার্তিক শীল। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ উৎসর্গ করেন তেজেন্দ্র শীলের ভাইয়ের মেয়ে বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদি শীল (১৭), অ্যানি শীল (৭) এবং কক্সবাজার থেকে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দেবেন্দ্র শীল (৭২)।
ঐতিহাসিক সেই ভয়াবহতম গণহত্যার পর তেজেন্দ্র লাল শীলের বেঁচে যাওয়া একমাত্র ছেলে বিমল শীল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেসময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। কিন্তু চরম পরিতাপের বিষয় হলো, বিগত দীর্ঘ ২৩ বছর অতিক্রম হলেও এই নারকীয় ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের আজ পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু ও যথাযথ বিচার সম্পন্ন হয়নি। একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও এবং রাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বললেও নিদারাবাদ কিংবা বাঁশখালীর মতো ঘটনার শিকার পরিবারগুলো বিচার মেলেনি আজও। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরের শিক্ষক হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মীরা অতীতের এসব বিচারহীন হত্যাকাণ্ডের বিচার চালুরও জোর দাবি জানাচ্ছেন।
মতামত