কৈলাশ মানসরোবর যাত্র পথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক হড়পা বানের পর অন্তত ২৯০ জন সনাতনী ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হওয়ার হৃদয়বিদারক খবর পাওয়া গেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পরম পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাশ মানসরোবরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে সীমান্ত পারাপারের ঠিক আগমুহূর্তে এই পুণ্যার্থীরা প্রলয়ঙ্করি পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়েন। হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশই ভারত থেকে যাওয়া সনাতনী দর্শনার্থী। নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের স্বজনদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, তবে উদ্ধার অভিযান ও সঠিক তথ্যের বিষয়ে চীনা ও নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীন চরণের এই সঙ্কটজনক মুহূর্তে বিপন্ন সনাতনীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ ও তাদের সুরক্ষায় দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রসুওয়াগড়ী সীমান্ত দিয়ে তিব্বতের জিরং অঞ্চলে প্রবেশের জন্য তীর্থযাত্রীদের কয়েকটি দল অপেক্ষা করছিল। নেপাল অংশের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চীনের ভূখণ্ডে প্রবেশের মুখেই মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল। এর পর থেকেই পুণ্যার্থীদের সাথে স্বজনদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের পর চীন বা নেপাল—কোন সীমান্তে পুণ্যার্থীরা আটকা পড়েছেন বা কার কী অবস্থা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিখোঁজ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে কলকাতার অন্তত ৩০ জনের একটি পুরো দল রয়েছে। ওই দলের সদস্য ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ শুভ্রশ্রী চক্রবর্তী গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল ইমিগ্রেশন শেষের সিলসহ পাসপোর্টের ছবি পাঠোনোর পরপরই যোগাযোগের বাইরে চলে যান। তার পরিবার এবং একই দলের রীনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও নিখোঁজ স্বজনের সুরক্ষার চিন্তায় প্রহর গুনছে।
সীমান্তের উভয় পাশে সঠিক তথ্য প্রদান ও সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতার এই অভাব সনাতনী তীর্থযাত্রীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধার কিংবা সঠিক অবস্থা উন্মোচনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। যেকোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী পুণ্যার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা পাওয়া তাদের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') করোনা মহামারি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার দরুন দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর গত বছর কৈলাশ যাত্রা পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এই পবিত্র তীর্থে সমবেত হতে শুরু করেন। কিন্তু প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তরান্বিত না হওয়ায় শতাধিক নিরীহ মানুষের প্রাণ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
পরিকাঠামোগত বিপর্যয় ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে ট্যুর অপারেটররাও নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ও নেপাল সরকারের উদ্ধারকাজের গতি বাড়িয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা এবং ভারত সরকারকে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক চাপে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতামত