বর্তমানে পুরো সংসারের একচ্ছত্র ভার এই সনাতনী নারীর কাঁধে। চার বছর আগে তার স্বামী দুলাল তাঁতী মারা যান। ছয় সন্তানের মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে হলেও ছোট মেয়ে এবং ছোট ছেলেকে নিয়ে এখন তার তিনজনের সংসার। চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি সন্তানদের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও তিনি নিবন্ধিত শ্রমিকের স্বীকৃতি পাননি। বাগানের নিবন্ধিত কর্মীরা যেখানে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি পান, সেখানে টুনি তাঁতী দৈনিক পান মাত্র ১৪০ টাকা। এই বৈষম্যমূলক ও নামমাত্র মজুরিতে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার চালানো তার জন্য এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী প্রান্তিক চা-শ্রমিক সমাজ যুগ যুগ ধরে যে অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চিত জীবনের মুখোমুখি, টুনি তাঁতীর জীবন যেন তারই এক জীবন্ত আলেখ্য। নিজের জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ও বঞ্চনা ভুলে তিনি এখন আকুল আকুতি জানান কেবল সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। তিনি চান তার ছোট ছেলে যেন তার মতো অমানবিক শ্রমের শিকার না হয়ে পড়াশোনা শিখে সমাজে নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। প্রান্তিক এই নারী শ্রমিকের একটাই মিনতি, ‘আমার ছেলেটা যেন আমার মতো শ্রমিক না হয়।’
দৈনিক ১৪০ টাকার লড়াই: ‘আমার ছেলেটা যেন আমার মতো শ্রমিক না হয়’
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট চা-বাগানের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী টুনি তাঁতী। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সংসারের চরম অভাব-অনটনের হাল ধরতে তাকে নামতে হয়েছিল রাবারবাগানের কঠোর শ্রমে। দেখতে দেখতে আজ ২৬টি বছর পার হয়ে গেছে, অথচ আজও ভাগ্য বদলায়নি এই প্রান্তিক শ্রমিকের। প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি রাবারগাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে দিনশেষে তিনি যা পান, তা দিয়ে বর্তমানের উর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই বিছানা ছেড়ে গৃহস্থালির কাজ সেরে পাঁচটার মধ্যে তিনি বেরিয়ে পড়েন রাবারবাগানের উদ্দেশে। ধাতব বালতি হাতে এক গাছ থেকে অন্য গাছে ক্লিপ বসানো বাটি থেকে কষ সংগ্রহ করা, তীব্র রোদ কিংবা বর্ষার বৃষ্টি—সবকিছু উপেক্ষা করে চলে তার নিরন্তন লড়াই। বাগান অফিস থেকে কষ জমা দিয়ে শুকনা কাঠ সংগ্রহ, গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটা এবং দিনশেষে বাড়ি ফিরে আবার পরিবারের সকলের রান্নাবান্না ও সেবাযত্নে কেটে যায় তার পুরোটা দিন।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত