রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় হিন্দু পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও সহকারীকে সাথে নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে এই নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এর আগে আসামিদের নিরাপত্তার সার্বিক দিক বিবেচনা করে টেকনোলজিস্টকে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের আদেশ দেওয়ার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল। অনুমতি পাওয়ার পরপরই অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি দলটি কারাগারে গিয়ে নমুনা গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শেষ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান যে, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পরেই এই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের আদালত বা কারাগারের বাইরে নিয়ে আসা হলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও যেকোনো সময় মব সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হতে পারতো। মানবাধিকার রক্ষা ও আসামিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদেই কারাগারের ভেতরেই নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ জানান, সংগৃহীত প্রস্রাবের নমুনা দ্রুত ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বসতবাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর সহধর্মিণী এবং তাঁদের দুই সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই চার খুনের ঘটনাটি গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলে দেয়। পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিবেশী দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেরা এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ছাদে সংঘটিত এই তিনজনের হত্যাকাণ্ড ও সার্বিক ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত বা বৈষম্যমূলক আক্রমণ নয়, বরং এটি একটি নৃশংস অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে স্বজনহারা পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদান ও সনাতনী সমাজের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে সর্বস্তর থেকে।
মতামত