বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, সহিংসতা ও হয়রানির বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সনাতনী রিসার্চ অ্যান্ড আইটি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ‘ফ্যাক্ট শিট অন মাইনরিটি পারসিকিউশন’ অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মোট ৪৩টি নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আগস্ট মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, সাতটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এবং সাতটি শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জমি দখলের ছয়টি, চুরি বা লুটের পাঁচটি, ধর্ষণের তিনটি, চাঁদাবাজির দুটি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দুটি, মন্দির ভাঙচুরের দুটি এবং গুলি চালানোর একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননা বা ধর্মীয় স্থাপনা-সংক্রান্ত একটি ঘটনার কথাও ফ্যাক্টশিটে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর শারীরিক হামলা, ধর্মীয় উপাসনালয় ও মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা হিসেবে না দেখে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে চলমান উদ্বেগ হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে।
সনাতনী রিসার্চ অ্যান্ড আইটি লিমিটেডের প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার পেছনে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ নিজেদের বসতভিটা ও এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার, অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সংখ্যালঘুদের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়ানো এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাগুলো নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির সম্পাদক প্রসেনজিৎ কুমার হালদার। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন দেবব্রত সরকার এবং তথ্য বিশ্লেষণ ও নকশা করেছেন নেরব সরকার। প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে আগস্ট মাসের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৪৩টি ঘটনার পরিসংখ্যানটি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নথি ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে এসব তথ্যকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সরকারি বা অন্য কোনো পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।
মতামত