মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানে মীরা হাজরা (৪০) নামে এক নারী চা শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাগানজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনের মতো সকালে চা পাতা তুলতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজন ও সহকর্মীরা তাকে খুঁজতে বের হন। পরে রাতে বাগানের ২৯ নম্বর সেকশনের একটি ড্রেনের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, ভাড়াউড়া চা-বাগানের স্থায়ী শ্রমিক মীরা হাজরা প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে চা পাতা তুলতে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। দিনের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাগানের অন্যান্য শ্রমিকরাও তাকে খুঁজতে বের হন।

মীরা হাজরার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে চা-বাগানের ভেতর একজন নারী শ্রমিকের এভাবে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদিন বাগানের বিভিন্ন সেকশনে কাজ করতে যাওয়া নারী শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, চা-বাগানের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ড্রেন, খাল ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মীরা হাজরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ভাড়াউড়া চা-বাগানে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। মীরা হাজরার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
মতামত