আজ সকালে পূজা-অর্চনা ও প্রসাদ বিতরণের পর ধর্মীয় শোভাযাত্রাসহকারে বিগ্রহবাহী নৌকা বহর ঢেপা নদীপথে রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবে। কান্তনগর থেকে দিনাজপুর শহরের রাজবাটী পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথিমধ্যে নদীর ৩৭টি ঘাটে অবস্থানরত হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী শ্রদ্ধার্ঘ্য ও ভালোবাসায় বিগ্রহদ্বয়কে অভ্যর্থনা জানাবেন। নদীর দুই তীরে ভক্তদের উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, জয়ধ্বনি এবং উৎসবমুখর উপস্থিতি পুরো অঞ্চলকে এক অপার্থিব ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত করবে। সনাতনীদের এই পবিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখা এবং সকল জাতির ধর্মীয় অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আয়োজন যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আসছে।
ঢেপা নদীতে ভক্তির জোয়ার: আড়াইশ বছরের রাজঐতিহ্য মেনে রাজবাটীতে ফিরছেন শ্রীশ্রী রুক্মিণী-কান্তজীউ
বাংলাদেশের সনাতনী সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক দিনাজপুরের রাজবংশীয় প্রথা মেনে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক নৌযাত্রা। আড়াইশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও লোকঐতিহ্যের রাজকীয় ধারা অব্যাহত রেখে আজ কান্তনগরের ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী কান্তজীউ মন্দির থেকে নৌপথে দিনাজপুর শহরের রাজবাটী কালিয়া জিউ মন্দিরে শুভ আগমন করছেন শ্রীশ্রী রুক্মিণী-কান্তজীউ যুগল বিগ্রহ। সনাতনীদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অধিকার ও রাজপরম্পরার এ এক অনন্য জীবন্ত প্রতীক।
চারশত বছরেরও বেশি প্রাচীন দিনাজপুরের রাজবংশের ইতিহাস সমৃদ্ধ কান্তজীউ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রাজা প্রাণনাথ, যা ১৭২২ সালে কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে নির্মাণ শুরু হয়ে পরবর্তীতে ১৭৫২ সালে তাঁর পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথের হাতে সম্পন্ন হয়। সেই ঐতিহাসিক কাল থেকেই সনাতনী ঐতিহ্য অনুসারে বছরের নয় মাস কান্তনগরের প্রধান মন্দিরে এবং বাকি তিন মাস দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ির কালিয়া জিউ মন্দিরে অবস্থান করেন শ্রীশ্রী রুক্মিণী-কান্তজীউ। প্রতি বছর শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমীর ঠিক একদিন আগে সুসজ্জিত নৌকা বহর নিয়ে ধর্মীয় আমেজে এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রার সূচনা ঘটে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত