আজ মহাসমারোহে ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও দীপাবলি। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত এই সর্বজনীন উৎসব উপলক্ষে সারা দেশের প্রতিটি সনাতনী পল্লী, মন্দির ও মণ্ডপে বইছে পরম আনন্দ ও ভক্তির প্লাবন। শক্তি, শান্তি ও শুভ্রতার প্রতীক দেবী শ্যামার আগমনে আজ প্রকম্পিত ভক্তের হৃদয়। অশুভ, অন্যায় ও অকল্যাণের অন্ধকার গ্রাস থেকে বিশ্বকে মুক্ত করে শুভ, ন্যায় ও সত্যকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হাজার বছর ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মহাপূজা পালন করে আসছেন। আলোর এই মহোৎসবে দেবী চরণে ভক্তিঅর্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি সন্ধ্যায় প্রতিটি গৃহে, আঙিনায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং মহাস্মাশানে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে স্বর্গীয় পিতা-মাতা, পিতৃপুরুষ ও প্রয়াত স্বজনদের পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হবে।
বাঙালি সংস্কৃতিতে কালীপূজা ও দীপাবলির তাৎপর্য অপরিসীম। আলোর উৎসবকে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজ ‘দীপাবলি’ বললেও অবাঙালি সনাতানীদের কাছে এটি ‘দিওয়ালি’ নামে পরিচিত, যা শাস্ত্রীয়ভাবে ‘দীপান্বিতা কালীপূজা’ হিসেবেও স্বীকৃত। ধর্মীয় এই উদযাপন কেবল কোনো পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি সব মানুষের সমান অধিকার, জাতিগত সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন মানবাধিকারের মূল সুরকে সুদৃঢ় করার এক অনন্য বার্তা বহন করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পঞ্জিকার বিশুদ্ধ হিসাব মতে, আজ রবিবার দুপুর ১টা ২ মিনিটে অমাবস্যা তিথি সূচনা হয়েছে, যা আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মধ্যরাতেই অনুষ্ঠিত হবে শক্তির দেবী মায়ের মূল আরাধনা।
উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সার্বজনীন ও পারিবারিক মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার ও বাংলাবাজারের অলিগলিতে এখন প্রদীপের আলো আর ঢাকের বোলে এক বর্ণিল ও আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সারা দেশের সনাতনী সম্প্রদায় আজ মায়ের করুণা প্রার্থনা করে অশুভ শক্তি ও বৈষম্যমুক্ত এক সুন্দর আগামীর কামনায় প্রার্থনারত।
মতামত