উল্লেখ্য, উপজেলার চকভালাই গ্রামের বাসিন্দা সারওয়ার জাহান উজ্জল কালীগ্রামে একটি বসতবাড়ি ক্রয় করার পর থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তার ওপর এক লাখ টাকা চাঁদার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। মেহনতি এই মানুষটি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২২ মার্চ দুপুরে রাজু মেম্বারের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে অন্যায়ভাবে ধরে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক হাতুড়িপেটা করে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করালেও শেষ রক্ষা হয়নি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ বিষয়ে মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম ও নিহতের পরিবার মৃত্যুর বিষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যেকোনো নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও এই নির্মম ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাজু মেম্বারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া আইনের শাসনের প্রতি গভীর প্রশ্ন তোলে। যেকোনো ধর্মের বা জাতির মানুষের ওপর এমন অত্যাচার মানবাধিকারের পরিপন্থী; স্বজনদের দাবি, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মান্দায় চাঁদা না দেওয়ায় হাতুড়িপেটা: সাড়ে ৫ মাস পর পরপারে উজ্জল
নওগাঁর মান্দায় কালীগ্রামে বসতবাড়ি কেনার পর দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চরম নৃশংসতার শিকার হওয়া সারওয়ার জাহান উজ্জল (৪৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। প্রায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। একজন নিরপরাধ মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে হাতুড়িপেটা করে নির্মমভাবে হত্যা করার পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে সম্পত্তি ক্রয় কিংবা বসবাস করার অধিকার সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হলেও চাঁদাবাজদের তাণ্ডবে তা আজ চরম হুমকির মুখে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসন এখনো নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত