সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ভাঙ্গাডহর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলায় রমেশ মজুমদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই গ্রামের রামকৃষ্ণ মজুমদার (৪২), জয়সেন মজুমদার (৩৫), রমন মজুমদার (৬২)সহ আরও ৩–৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলায় জড়িত। অভিযুক্তদের সঙ্গে রমেশ মজুমদার পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাই অভিযুক্তরা রমেশ মজুমদারের স্ত্রী প্রনতী মজুমদারকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে গুরুতর আহত করেন। ওই ঘটনায় রমেশ মজুমদার দিরাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (সি.আর মামলা নং–১৬০/২০২৫) দায়ের করেন। মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটিকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
ভুক্তভোগীর ভাতিজা উপানন্দ মজুমদার (৪১) জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে রমেশ মজুমদার নিজ বাড়ি থেকে হাওরে হালচাষের কাজে বের হলে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার পথরোধ করে। এ সময় রামকৃষ্ণ মজুমদার লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। জয়সেন মজুমদার শাবল দিয়ে পা ও হাঁটুতে আঘাত করলে তার হাড় ভেঙে যায়। রমন মজুমদার বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা কাঠের রুইল ও লাঠিসোটা দিয়ে পিঠ, বুক, কোমর ও পায়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে।
হামলার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত রমেশ মজুমদারকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রামকৃষ্ণ মজুমদার বলেন, “কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।” রমেশ মজুমদার কীভাবে আহত হয়েছেন—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মতামত