পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষাবর্ষের আট মাস পেরিয়ে গেলেও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই। উপজেলার সুন্দরদিঘী শিবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ৩১ জন হিন্দু শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনই এখনো হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের শুরুতেই অন্যান্য বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছালেও হিন্দুধর্ম শিক্ষা বইয়ের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। শিক্ষাবর্ষের প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ হিন্দু শিক্ষার্থীর হাতে বই না থাকায় তারা নিয়মিতভাবে ধর্মীয় বিষয়ের পাঠ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে একই শ্রেণির অন্য শিক্ষার্থীরা যেখানে নির্ধারিত পাঠ্যবই নিয়ে পড়াশোনা করছে, সেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের বই ছাড়াই ক্লাস করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বিদ্যালয়টিতে পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ৩১ জন হিন্দু শিক্ষার্থী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাত্র সাতজনের হাতে হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। বাকি ২৪ জন শিক্ষার্থী এখনো বই না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে বছরের এতটা সময় পার হওয়ার পরও নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছানো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সন্তানদের পড়াশোনার স্বার্থে তাঁরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠ প্রস্তুতি, বাড়ির কাজ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সমস্যা হচ্ছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বিষয়ের পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার কথা, সেখানে আট মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন ২৪ জন শিক্ষার্থী হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই থেকে বঞ্চিত থাকবে? তাঁরা দ্রুত বই সরবরাহের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের গাফিলতি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, একটি শ্রেণির বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একই বিষয়ের বই না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের নজরে এনে দ্রুত সমাধানের দাবি উঠেছে। অভিভাবকরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের হাতে দ্রুত হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভাষ্য, ধর্মীয় শিক্ষা অন্য যেকোনো বিষয়ের মতোই পাঠ্যক্রমের একটি অংশ। তাই বইয়ের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
মতামত