সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডের চৌকিদিঘী এলাকার ‘ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলে’ সাঁতার কাটতে নেমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম দিপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১)। তিনি শাবিপ্রবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দিপাঞ্জনের পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। তবে তার পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
নিহতের সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শী ফায়াজ নবী জানান, তারা তিন বন্ধু নিয়মিত ওই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যেতেন। মঙ্গলবার প্রিয়মও তাদের সঙ্গে সাঁতার কাটতে যান এবং তিনি সাঁতার জানেন বলে জানান।
ফায়াজ বলেন, বিকেল ৫টার দিকে তারা সাঁতার শুরু করেন। এ সময় প্রিয়ম কয়েকবার সুইমিংপুলের ৯ ফুট গভীর অংশে গিয়ে আবার ফিরে আসেন। পরে সবাই সাঁতারে ব্যস্ত থাকার সময় প্রিয়ম কখন আবার ওই গভীর অংশে চলে যান, তা তারা খেয়াল করতে পারেননি। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সুইমিংপুলের কর্মীরা তাকে ৯ ফুট গভীর পানি থেকে উদ্ধার করেন।
ফায়াজের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারের পর প্রিয়মের শরীরে ঝাঁকুনি দিলে তিনি বমি করেন এবং শ্বাস নিচ্ছিলেন। পরে তাকে দ্রুত নগরীর দরগাহ গেট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ইসিজি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, তাদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। তবে প্রিয়ম ৯ ফুট গভীর অংশে চলে গিয়েছিলেন।
তিনি জানান, সুইমিংপুলের এক কর্মী পানির কিছুটা নিচে প্রিয়মকে চিত হয়ে ভেসে থাকতে দেখে তাকে খবর দেন। পরে তিনি প্রিয়মকে উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে শারীরিকভাবে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তিনি বমি করেন এবং হালকা শ্বাস নিচ্ছিলেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে নূরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত মর্মাহত। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা সিলেটে আসছেন। আপাতত মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকিতে ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সিলেটের বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন। পরে এক শিক্ষার্থীকে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নূরজাহান হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাসিম আহমদ বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মতামত