হিন্দুস নিউজ

চার দশক ধরে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পার করছেন প্রবীণ কমলেশ


| প্রিন্ট সংস্করণ

চার দশক ধরে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পার করছেন প্রবীণ কমলেশ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
মানবতার ব্রত ও সামাজিক দায়িত্ববোধ কোনো আর্থিক হিসেব-নিকেশের কাছে আটকে থাকে না—তার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সুতারচাপর ঘাটের প্রবীণ মাঝি কমলেশ চন্দ্র। কালী বানার, সুতিয়া ও ধামকা নদীর ত্রিবেনী সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এই ঘাটে দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নদী পারাপার করে আসছেন তিনি। নিগুয়ারী বাজারের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিদিনের পথচলার একমাত্র ভরসা এই প্রবীণ খেয়ানিবেদিত মানুষটি। নিজের অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও জীবনের দীর্ঘ চারটি দশকেরও বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি এই বিরল ত্যাগ ও অবদান রেখে চলছেন।


​কমলেশ চন্দ্রের পরিবার তিন প্রজন্মের বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যগতভাবে এই খেয়া পারাপারের পেশার সঙ্গে জড়িত। মাত্র ১০ বছর বয়সে পিতার হাত ধরে নৌকা চালানো শেখা এই বীর মানুষটি আজ জীবনপ্রাহ্ণে দাঁড়িয়েও সনাতনী মূল্যবোধ ও সর্বজনীন মানবতার এক অমূল্য প্রতীক হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন ভোরে যখন শিক্ষার্থীরা বই-খাতা হাতে ঘাটে এসে পৌঁছায়, তখন কোনো রূপ ভাড়া না নিয়ে হাসিমুখে তাদের নৌকায় তুলে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াটাই যেন তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা। শিক্ষা ও সমাজ গঠনে তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন অবদান কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং গোটা সমাজের সার্বিক মানবিক অগ্রগতির এক অনন্য উদাহরণ।

​নিজের পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে যেখানে জীবনসংগ্রাম প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে, সেখানে কমলেশের এমন ত্যাগ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নৌকার দৈনিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদ দিলে তাঁর হাতে দিনশেষে জমা থাকে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সামান্য এই উপার্জনে বর্তমানের আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের বাজারে পরিবার চালানোই যেখানে পরম চ্যালেঞ্জের বিষয়, সেখানে তিনি কোনোদিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা টাকাও ভাড়া দাবি করেননি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক খেটে খাওয়া সনাতনী মেহনতি মানুষের মৌলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কমলেশ মাঝির এই নিঃস্বার্থ জীবন সংগ্রাম এক বিরাট অনুপ্রেরণা তৈরি করে।

​আজকের দিনে যখন স্বার্থপরতা ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি চারপাশ ঘিরে ধরেছে, তখন সুতারচাপর ঘাটের এই প্রবীণ মাঝির ত্যাগী জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানবসেবাই পরম ধর্ম। শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাজীবনে কমলেশ চন্দ্র মাঝির এই অবদান চিরস্মরণীয় এবং সমাজের বিত্তবান ও সরকারি পর্যায়ে এমন নিঃস্বার্থ মানবিক ব্যক্তিত্বের যথাযথ মর্যাদা ও সহযোগিতা প্রদান করা একান্ত আবশ্যক।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


চার দশক ধরে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পার করছেন প্রবীণ কমলেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মানবতার ব্রত ও সামাজিক দায়িত্ববোধ কোনো আর্থিক হিসেব-নিকেশের কাছে আটকে থাকে না—তার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সুতারচাপর ঘাটের প্রবীণ মাঝি কমলেশ চন্দ্র। কালী বানার, সুতিয়া ও ধামকা নদীর ত্রিবেনী সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এই ঘাটে দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নদী পারাপার করে আসছেন তিনি। নিগুয়ারী বাজারের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিদিনের পথচলার একমাত্র ভরসা এই প্রবীণ খেয়ানিবেদিত মানুষটি। নিজের অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও জীবনের দীর্ঘ চারটি দশকেরও বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি এই বিরল ত্যাগ ও অবদান রেখে চলছেন।


​কমলেশ চন্দ্রের পরিবার তিন প্রজন্মের বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যগতভাবে এই খেয়া পারাপারের পেশার সঙ্গে জড়িত। মাত্র ১০ বছর বয়সে পিতার হাত ধরে নৌকা চালানো শেখা এই বীর মানুষটি আজ জীবনপ্রাহ্ণে দাঁড়িয়েও সনাতনী মূল্যবোধ ও সর্বজনীন মানবতার এক অমূল্য প্রতীক হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন ভোরে যখন শিক্ষার্থীরা বই-খাতা হাতে ঘাটে এসে পৌঁছায়, তখন কোনো রূপ ভাড়া না নিয়ে হাসিমুখে তাদের নৌকায় তুলে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াটাই যেন তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা। শিক্ষা ও সমাজ গঠনে তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন অবদান কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং গোটা সমাজের সার্বিক মানবিক অগ্রগতির এক অনন্য উদাহরণ।

​নিজের পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে যেখানে জীবনসংগ্রাম প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে, সেখানে কমলেশের এমন ত্যাগ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নৌকার দৈনিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদ দিলে তাঁর হাতে দিনশেষে জমা থাকে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সামান্য এই উপার্জনে বর্তমানের আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের বাজারে পরিবার চালানোই যেখানে পরম চ্যালেঞ্জের বিষয়, সেখানে তিনি কোনোদিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা টাকাও ভাড়া দাবি করেননি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক খেটে খাওয়া সনাতনী মেহনতি মানুষের মৌলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কমলেশ মাঝির এই নিঃস্বার্থ জীবন সংগ্রাম এক বিরাট অনুপ্রেরণা তৈরি করে।

​আজকের দিনে যখন স্বার্থপরতা ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি চারপাশ ঘিরে ধরেছে, তখন সুতারচাপর ঘাটের এই প্রবীণ মাঝির ত্যাগী জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানবসেবাই পরম ধর্ম। শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাজীবনে কমলেশ চন্দ্র মাঝির এই অবদান চিরস্মরণীয় এবং সমাজের বিত্তবান ও সরকারি পর্যায়ে এমন নিঃস্বার্থ মানবিক ব্যক্তিত্বের যথাযথ মর্যাদা ও সহযোগিতা প্রদান করা একান্ত আবশ্যক।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
চার দশক ধরে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পার করছেন প্রবীণ কমলেশ
0:00 0:00
1.0x