মরণের পরও মানবকল্যাণ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের সন্তান লিটন দাশ তালুকদার। নিজের পার্থিব জীবন অবসান ঘটিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে দেহদান করে সনাতন ধর্মের মানবসেবা ও ত্যাগের এক অনন্য মহৎ রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। এটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহদানের ঐতিহাসিক নজির।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগে গত রোববার নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক এই একনিষ্ঠ কর্মী ও বেসরকারি চাকরিজীবী। অসুস্থ থাকা অবস্থাতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে মৃত্যুর পর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাঁর দেহ দাহ না করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির স্বার্থে দান করে যাবেন। এই মহৎ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত আগস্ট মাসেই যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
রোববার রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি এবং এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়াতের দেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন তাঁর শোকসন্তপ্ত স্বজনরা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ সময় তাঁর মহান ত্যাগ ও আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) পক্ষ থেকে প্রয়াত লিটন দাশ তালুকদারকে লাল সালাম ও অন্তিম শুভেচ্ছা জানানো হয়। সনাতনী মূল্যবোধের পরম সত্য 'জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর'—এই বাণীকেই যেন নিজের জীবন ও মৃত্যুর মাধ্যমে চিরস্মরণীয় করে রেখে গেলেন তিনি। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগ চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানবকল্যাণ ও সমাজ ভাবনায় চিরকাল উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে।
মতামত