চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং মানবকল্যাণের এক অনন্য ও নিঃস্বার্থ নজির স্থাপন করেছেন রাজবাড়ীর প্রথম নারী আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী। জীবনাবসানের পরও মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে তিনি মৃত্যুর পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য তাঁর মরণোত্তর দেহদানের এক মহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, যা সমাজে এক দীপ্তিময় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। শনিবার এক আবেগঘন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেবাহুতি চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত দেহদান সংক্রান্ত দলিলসহ মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন হাসপাতালের আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান শামীমের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
এ সময় ফরিদপুর ডায়াবেটিস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ ডা. মনোয়ার আহমেদ, বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ এবং দেবাহুতি চক্রবর্তীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা এ সময় গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন যে, দেবাহুতি চক্রবর্তীর এই মহৎ দেহদান কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন ও গবেষণার পথকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং সকল জাতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে মানবসেবা ও সার্বজনীন মানবাধিকারের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে যুগ যুগ ধরে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতন সমাজ তথা দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং মানবকল্যাণের পক্ষে এমন নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও মহীয়সী উদ্যোগ সমাজে এক গভীর ইতিবাচক রেখাপাত করেছে, যা কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য নয়, বরং গোটা মানবজাতির জন্যই এক পরম প্রাপ্তি।
মতামত