কুয়েতপ্রবাসী লিটন দাসের মনে যখন প্রবল শঙ্কা আর আকুলতা কাজ করছিল, তখনো তিনি জানতেন না যে প্রবাসের আকাশ পেরিয়ে দেশের মাটি ছোঁয়ার আগেই তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানবী চিরবিদায় নিয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আট বছরের শিশু ঐশী দাসের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং গোটা সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যায় সে। কাট্টলী আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ঐশী ছিল দুই বোনের মধ্যে ছোট। তার আকস্মিক প্রয়াণে সনাতনী পরিবারটিসহ পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর গত সোমবার ঐশীকে নগরীর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু চট্টগ্রামে আইসিইউ সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সিট পাওয়া যায়নি, যা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হলেও আজও সাধারণ মানুষ এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরবর্তীতে সাজিনাস হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে কুয়েতে অবস্থানরত বাবা লিটন দাস মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় বৃহস্পতিবার রাতে দেশের ফেরার টিকিট কাটেন। কিন্তু ফ্লাইটে বসেই ফেসবুকের একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার আদরের ঐশী আর বেঁচে নেই। শুক্রবার সকালে দেশে ফিরে কাট্টলীর বাড়িতে মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান তিনি এবং দুপুরে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের কাঁধে করে মেয়েকে শ্মশানে নিয়ে যান। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ' সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারিভাবে মারা গেছে ৩৫ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত হাজারে দাঁড়িয়েছে। এমন একটি দিনেও আমাদের স্বাস্থ্যখাতের চরম উদাসীনতা ও চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা সনাতনসহ সব জাতির মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আজ প্রবাসীর কোল খালি হয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় প্রতিটি মানুষের জীবনের অধিকারের কথা বলা হলেও স্বাস্থ্যসেবার এই বেহাল দশা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রতিটি শিশুর সুচিকিৎসা ও জীবন সুরক্ষার সুনিশ্চিতGuarantee প্রদানে রাষ্ট্রকে সচেষ্ট হতে হবে, যাতে আর কোনো প্রবাসীর বুক এভাবে খালি না হয়।
মতামত