কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় এক হিন্দু পরিবারের ওপর নৃশংস ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা বৃদ্ধা নারী অনিতা রানী দাসের কানে থাকা সোনার দুল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতে গিয়ে তাঁর কান ছিঁড়ে ফেলেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে, কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের নাথবাড়িতে। ভুক্তভোগী অনিতা রানী দাস প্রয়াত সানু দাসের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মুখোশধারী ও অস্ত্রসজ্জিত ১০ থেকে ১৫ জন ডাকাত দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা ঘরের স্টিলের আলমারি ও কাঠের শোকেস ভেঙে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ডাকাতরা অনিতা দাসের মেয়ে ও ছেলের বউয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, নাতি-নাতনিদের ১২ ভরি রুপার নূপুর এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
অনিতা রানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ডাকাতরা তাঁর কানে থাকা সোনার দুল নিতে গেলে প্রচণ্ড টান দেয়, এতে তাঁর কান ছিঁড়ে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি চিৎকার শুরু করলে তাঁকে মারধর করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ডাকাতরা ঘরের সবকিছু তছনছ করে লুটপাট চালায়।
তিনি আরও বলেন, ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলে, পাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি করবে এবং কেউ শব্দ করলে ফিরে এসে হত্যা করবে। ভয়ভীতির কারণে ওই সময় কেউ প্রতিবেশীদের ডাকতেও সাহস পাননি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
অনিতা দাস বলেন, “সকাল হলেই আমার মেয়েটা চলে যাওয়ার কথা ছিল। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। আমার সব কিছু লুট হয়ে গেল।”
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ দাশ গুপ্ত বলেন, ডাকাতির বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কেউ ঘটনাটি তাদের জানায়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলোকে টার্গেট করে একের পর এক ডাকাতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তৎপরতা আশানুরূপ নয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মতামত