হিন্দুস নিউজ

বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত ইবির সনাতনী যুবক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত ইবির সনাতনী যুবক
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

মেধাতালিকায় ওপরের সারিতে স্থান পেয়েও শুধুমাত্র নিজেদের কোনো বসতভিটা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চূড়ান্ত নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এক মেধাবী সনাতনী যুবক। মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও মাথার ওপর নিজস্ব ছাদ না থাকার অজুহাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র আটকে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী এই যুবকের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় হলেও বহু বছর আগে বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি পিতৃপরিচয় ও বাবার ঠিকানা থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে জীবনের পরতে পরতে চরম আর্থিক অনটন ও অমানবিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় দিনাতিপাত করে আসছেন তিনি। অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করা এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন আজ প্রশাসনিক জটিলতা ও অসংবেদনশীল নিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে চলেছে, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সমতার পরিপন্থী।

​ঝিনাইদহ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া বাকি দুজনের মধ্যে একজন মামলার আসামি হলেও সম্পূর্ণ নির্দোষ ও যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে বাদ পড়েছেন মিশন আচার্য। পুলিশি তদন্তের সময় জমিজমা সংক্রান্ত তথ্যের কথা জানতে পেরে চরম বিপদের মুখে সহায় সম্বলহীন পরিবারটিকে বাঁচাতে তার খালু গ্রামে দুই শতক জমি তার নামে লিখে দেন এবং সেই দলিল জমা দেওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী ঠিকানায় নিজস্ব বসতবাড়ি না থাকার অজুহাতে এই তরুণকে নিয়োগবঞ্চিত রাখা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') নিজের যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমের এমন নির্মম পরিণতিতে ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়া মিশন জানান, শৈশব থেকে ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠা বা ভূমিহীন হওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। রাষ্ট্র ভোট নিচ্ছে, নাগরিক পরিচয় দিচ্ছে, কিন্তু মেধার মূল্যায়ন না করে জমির দলিলকে বড় করে দেখছে—এমন বৈষম্যমূলক মানসিকতা একজন ভূমিহীন ও প্রান্তিক নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন যে, স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত এই প্রশাসনিক জটিলতার কথা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সমাধানের আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : সনাতনী বৈষম্য চাকরি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত ইবির সনাতনী যুবক

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মেধাতালিকায় ওপরের সারিতে স্থান পেয়েও শুধুমাত্র নিজেদের কোনো বসতভিটা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চূড়ান্ত নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এক মেধাবী সনাতনী যুবক। মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও মাথার ওপর নিজস্ব ছাদ না থাকার অজুহাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র আটকে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী এই যুবকের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় হলেও বহু বছর আগে বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি পিতৃপরিচয় ও বাবার ঠিকানা থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে জীবনের পরতে পরতে চরম আর্থিক অনটন ও অমানবিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় দিনাতিপাত করে আসছেন তিনি। অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করা এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন আজ প্রশাসনিক জটিলতা ও অসংবেদনশীল নিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে চলেছে, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সমতার পরিপন্থী।

​ঝিনাইদহ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া বাকি দুজনের মধ্যে একজন মামলার আসামি হলেও সম্পূর্ণ নির্দোষ ও যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে বাদ পড়েছেন মিশন আচার্য। পুলিশি তদন্তের সময় জমিজমা সংক্রান্ত তথ্যের কথা জানতে পেরে চরম বিপদের মুখে সহায় সম্বলহীন পরিবারটিকে বাঁচাতে তার খালু গ্রামে দুই শতক জমি তার নামে লিখে দেন এবং সেই দলিল জমা দেওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী ঠিকানায় নিজস্ব বসতবাড়ি না থাকার অজুহাতে এই তরুণকে নিয়োগবঞ্চিত রাখা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') নিজের যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমের এমন নির্মম পরিণতিতে ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়া মিশন জানান, শৈশব থেকে ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠা বা ভূমিহীন হওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। রাষ্ট্র ভোট নিচ্ছে, নাগরিক পরিচয় দিচ্ছে, কিন্তু মেধার মূল্যায়ন না করে জমির দলিলকে বড় করে দেখছে—এমন বৈষম্যমূলক মানসিকতা একজন ভূমিহীন ও প্রান্তিক নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন যে, স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত এই প্রশাসনিক জটিলতার কথা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সমাধানের আশা করা হচ্ছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত ইবির সনাতনী যুবক
0:00 0:00
1.0x