শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করেও স্রেফ নিজস্ব কোনো ভিটামাটি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকার দোহাই দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ঝিনাইদহের এক অদম্য সনাতনী যুবক মিশন আচার্য। পিতৃহীন এই মেধাবী তরুণের দীর্ঘ সংগ্রাম, মায়ের অমানুষিক শ্রম এবং যোগ্যতা প্রমাণের পরও প্রশাসনিক জটিলতার গ্যাঁড়াকলে তাঁর স্বপ্নের প্রদীপ যখন নিভে যাওয়ার উপক্রম, তখন তা কেবল এক ব্যক্তির বঞ্চনা নয়, বরং মানবাধিকার ও সামাজিক সুবিচারের প্রতি এক চরম আঘাত হিসেবে সামনে এসেছে। তবে মানবিকতা ও সনাতন সম্প্রদায়ের এক লড়াকু সন্তানের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে দেওয়া এক বিশেষ ডিও লেটারে (ডেমি অফিসিয়াল চিঠি) তিনি মিশন আচার্যের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তাঁর নিয়োগপত্র দ্রুত প্রদানের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ কৃতিত্বের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পাননি—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদ নজরে আসার পরই স্বপ্রণোদিত হয়ে ঝিনাইদহের স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাশেদ খাঁন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় জন্মলগ্ন থেকেই বসবাস করছেন মিশন এবং বর্তমানে তিনি ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছেন।
ছোটবেলাতেই বাবাকে হারানো মিশন আচার্যের শৈশব থেকে বেড়ে ওঠার পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। মা ময়না আচার্য অন্যের বাসাবাড়িতে পরিঝিয়ের কাজ করে, নিজের অশেষ হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করান। চরম প্রতিকূলতা ও আর্থিক অনটনকে তোয়াক্কা না করে মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর মেধার শক্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক উভয় ধাপে সফলতা অর্জন করেন। কিন্তু আজ যোগ্যতা থাকার পরও কেবল নিজস্ব ভূসম্পত্তি না থাকায় তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পথ রুদ্ধ হতে বসেছে, যা কোনো স্বাধীন দেশে নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে পরম ভদ্র ও সৎ হিসেবে পরিচিত এই মেধাবী তরুণের ওপর যাতে কোনো অন্যায় না হয়, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খাঁন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি মানবিক ও বিধিসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার জন্য শিক্ষ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মতামত