দেবীপক্ষের সূচনার পর মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার আগমন। বাঙালির আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সর্বজনীন দুর্গাপূজা। কিন্তু পুজোর প্রাক্কালে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার সময় অসতর্কতার জেরে ঘটে গেল এক অনভিপ্রেত ঘটনা। বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে আগুন ধরে গেল দেবী দুর্গার প্রতিমায়। আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে প্রতিমার বস্ত্র, মুকুট ও অন্যান্য অলংকারের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি রাজধানীর উত্তর বাধারঘাটের সুভাষ পল্লী এলাকার কৌরবস্ ক্লাবের প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটে। সোমবার দুপুর নাগাদ মিলন সংঘ ও উন্নয়ন সংঘের মাঝামাঝি এলাকায় প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় সেটি বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিমায় আগুন ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে প্রতিমার পরনের বস্ত্র, মুকুট এবং অন্যান্য অলংকারের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায়। পুজোর আগে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় সতর্কতা কোথায়?
ঘটনার পর প্রতিমা পরিবহণের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িতে পর্যাপ্ত লোকজনের উপস্থিতি এবং বিদ্যুতের তারের বিষয়ে আগাম সতর্কতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে বাঁশ দিয়ে বিদ্যুতের তার উঁচু করে নিরাপদে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।
দুর্গাপূজার মতো আবেগঘন উৎসবে প্রতিমা পরিবহণ ও নিরঞ্জনের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর কৌরবস্ ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কীভাবে প্রতিমা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এল, পরিবহণের সময় নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং এমন ঘটনা এড়াতে আগে থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলিই এখন সামনে আসছে।
এই বিষয়ে ক্লাবের সভাপতি রাজেশ দে-র কাছ থেকে কোনও স্পষ্টিকরণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
পুজোর আনন্দের মাঝেই এমন ঘটনা ভক্তদের মনে আঘাত দিয়েছে। আগামী দিনে প্রতিমা পরিবহণ ও নিরঞ্জনের সময় যাতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আরও সতর্কতা ও উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।
মতামত