হিন্দুস নিউজ

​২৪ ঘণ্টার অলৌকিক বুনন ও পুণ্য অর্জনের বাসনা

খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর দানোৎসব। পাহাড়ে এখন বইছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজ। জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে এই উৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এতে পাহাড়ি ও বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেওয়ায় উৎসবটি ধীরে ধীরে সর্বজনীন রূপ লাভ করেছে।

​বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সেই সুতা দিয়ে বিশেষ কাপড় বা চীবর বুনে ভিক্ষুদের দান করা হয়। কায়িক, বাচনিক ও মানসিক পুণ্য অর্জনের বিশ্বাস থেকে বৌদ্ধ শাস্ত্রে এই দানকে ‘শ্রেষ্ঠ দান’ বলা হয়ে থাকে। আষাঢ়ি পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত বা ওয়া পালন শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হয় এই দানোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

​উৎসবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চরকার সাহায্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি, সুতা রং করা এবং তাঁতে চীবর বোনার কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরদিন বিকেলে দায়ক-দায়িকারা সেই পবিত্র চীবর ভিক্ষুদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে প্রতিদিনই এই অনন্য আয়োজন চলছে। বুদ্ধের সন্তুষ্টি অর্জন ও পুণ্য লাভই এই দানের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করেন ধর্মাবলম্বীরা।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​প্রতিবছর কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে পুণ্য লাভের আশায় বিহারগুলোতে নামে মানুষের ঢল। উৎসবে চাকমা, মারমা ও বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ শোভাযাত্রাসহ বর্ষাব্রত পালনকারী ভিক্ষুদের শ্রদ্ধা জানান। পরজন্মে জ্ঞান লাভের প্রত্যাশায় ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ পিদিমা বা কল্পতরুতে দান করেন। ভিক্ষুদের দেওয়া হয় বিশেষ ধরনের খাবার ‘সোয়ং’। এ ছাড়া বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধপূজা, প্রদীপপূজা, সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কারসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রুমেল মারমা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বুদ্ধের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। জগতে অনেক ধরনের দান থাকলেও কঠিন চীবর দানের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতিও ধুয়ে-মুছে যায় বলে বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করা হয়।

​খাগড়াছড়ি য়ংড বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ক্ষেমাসারা মহাস্থবিরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বুদ্ধের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পুণ্যময় একটি ধর্মীয় আয়োজন।

​পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি বলেন, মাসব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব এখন সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। কঠিন চীবর দানোৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে পুনর্জন্ম ও কর্মফলে বিশ্বাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কায়িক, বাচনিক ও মানসিক পুণ্য অর্জনের বাসনা পূর্ণ হবে—এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।

বিষয় : বৌদ্ধ খাগড়াছড়ি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর দানোৎসব। পাহাড়ে এখন বইছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজ। জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে এই উৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এতে পাহাড়ি ও বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেওয়ায় উৎসবটি ধীরে ধীরে সর্বজনীন রূপ লাভ করেছে।

​বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সেই সুতা দিয়ে বিশেষ কাপড় বা চীবর বুনে ভিক্ষুদের দান করা হয়। কায়িক, বাচনিক ও মানসিক পুণ্য অর্জনের বিশ্বাস থেকে বৌদ্ধ শাস্ত্রে এই দানকে ‘শ্রেষ্ঠ দান’ বলা হয়ে থাকে। আষাঢ়ি পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত বা ওয়া পালন শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হয় এই দানোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

​উৎসবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চরকার সাহায্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি, সুতা রং করা এবং তাঁতে চীবর বোনার কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরদিন বিকেলে দায়ক-দায়িকারা সেই পবিত্র চীবর ভিক্ষুদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে প্রতিদিনই এই অনন্য আয়োজন চলছে। বুদ্ধের সন্তুষ্টি অর্জন ও পুণ্য লাভই এই দানের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করেন ধর্মাবলম্বীরা।

​প্রতিবছর কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে পুণ্য লাভের আশায় বিহারগুলোতে নামে মানুষের ঢল। উৎসবে চাকমা, মারমা ও বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ শোভাযাত্রাসহ বর্ষাব্রত পালনকারী ভিক্ষুদের শ্রদ্ধা জানান। পরজন্মে জ্ঞান লাভের প্রত্যাশায় ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ পিদিমা বা কল্পতরুতে দান করেন। ভিক্ষুদের দেওয়া হয় বিশেষ ধরনের খাবার ‘সোয়ং’। এ ছাড়া বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধপূজা, প্রদীপপূজা, সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কারসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রুমেল মারমা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বুদ্ধের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। জগতে অনেক ধরনের দান থাকলেও কঠিন চীবর দানের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতিও ধুয়ে-মুছে যায় বলে বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করা হয়।

​খাগড়াছড়ি য়ংড বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ক্ষেমাসারা মহাস্থবিরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বুদ্ধের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পুণ্যময় একটি ধর্মীয় আয়োজন।

​পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি বলেন, মাসব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব এখন সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। কঠিন চীবর দানোৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে পুনর্জন্ম ও কর্মফলে বিশ্বাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কায়িক, বাচনিক ও মানসিক পুণ্য অর্জনের বাসনা পূর্ণ হবে—এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব
0:00 0:00
1.0x