বাবাকে নিয়ে কত স্মৃতি, কত না-বলা কথা আর কত অপ্রকাশিত অনুভূতি জমে থাকে সন্তানের মনে। সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশের সুযোগ করে দিতে শারদীয় দুর্গোৎসবে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ সাবেক এলাকার সামাজিক সংগঠন মা ভবানী একতা সংঘ।
নির্বাচিতরা হলেন শান্তিনিকেতনের রাধিকা দে চৈতি, নীলাভ সাহা ও চট্টগ্রামের আপন।
সংগঠনটির দুর্গোৎসবের বিশেষ ভাবনা ছিল ‘শ্রীচরণেষু—বাবা’। এ ভাবনার অংশ হিসেবে ‘খোলা চিঠি’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বাবাকে উদ্দেশ করে চিঠি লিখে নিজেদের অনুভূতি, শৈশবের স্মৃতি, জীবনের গল্প এবং বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
চিঠিগুলোর বিষয়বস্তুতে উঠে আসে সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকার নানা দিক। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বাবার নিরন্তর সংগ্রাম, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে তাঁর ত্যাগ, স্নেহ-শাসন এবং জীবনের প্রতিকূল সময়ে নির্ভরতার নানা স্মৃতি স্থান পেয়েছে এসব লেখায়।
আয়োজকদের এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও উঠে এসেছে—বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা শুধু অনুভবের বিষয় নয়, তা প্রকাশ করাও প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের দূরত্ব কমিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধার চর্চা বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
ধর্মীয় উৎসবের প্রচলিত আয়োজনের বাইরে গিয়ে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতিকে দুর্গোৎসবের ভাবনায় যুক্ত করার এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যতিক্রমী মাত্রা যোগ করেছে। চিঠির প্রতিটিতেই ছিল একেকটি পরিবারের গল্প, একেকটি সন্তানের অনুভূতি এবং বাবাকে ঘিরে ভালোবাসার ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।
কর্মসূচিটির মিডিয়া পার্টনার ছিল পাক্ষিক চলমান রাঙ্গুনিয়া।
মতামত