পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি বড় মেয়ে লুনা রায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কাহারোল এলাকায় সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গোপেশ চন্দ্র রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা হিসেবে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ‘কাহারোল গণ সংগ্রাম কমিটি’ গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন এবং এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তাঁর সাহসী ভূমিকা কাহারোলের ইতিহাসে স্মরণীয়।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী ও নীতিনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিজ দলের ভেতরেও অন্যায়, সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখে দীর্ঘদিন সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেন।
সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি কাহারোল উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কাহারোল উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পেশাগত জীবনে গোপেশ চন্দ্র রায় ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি বনরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি কাহারোল সংস্কৃতি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
বর্তমানে জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন গোপেশ চন্দ্র রায় তাঁর কর্মজীবনের সকল ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
মতামত