চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃক জারি করা সাম্প্রতিক এক গণবিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সনাতনী সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩৩০ জনকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, তালিকায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাগারে আটক থাকা সনাতন জাগরণী জোটের নেতা ও সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারবেন না এবং আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তাদের বক্তব্য, একজন সন্ন্যাসী যিনি বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন, তাকে ‘দুষ্কৃতকারী’ আখ্যা দিয়ে নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আইনগত ও নৈতিক—দুই দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সনাতনী সমাজের সদস্যরা বলছেন, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ হয়তো ভুলে গিয়েছে যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তিনি কোনোভাবেই নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অবস্থায় নেই।
তাদের দাবি, একজন ধর্মীয় সন্ন্যাসীকে প্রকাশ্যে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং সমগ্র সনাতনী সমাজের অনুভূতিতে আঘাত। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নগরীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়ে বিষয়টি সংশোধন করা হোক এবং কারাবন্দি এক সন্ন্যাসীর নাম ‘দুষ্কৃতকারী’ তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হোক, যাতে চট্টগ্রামের শান্ত পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।পাশাপাশি তারা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
মতামত