রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পেছনে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি মনোনীত চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে সনাতনী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই মামলা করিয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে নগরের দেওয়ানজি পুকুর পাড়ে চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ মিলনায়তনে সনাতনী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আবু সুফিয়ান বলেন, “আপনাদের অনেকেই চিন্ময় প্রভুর কথা বলেছেন। আমিও তাঁর সঙ্গে একাধিক সভায় কথা বলেছি। পরে হঠাৎ করে বিএনপির এক নেতাকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়। বিষয়টি জানার পর বিএনপি ওই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে তদন্তে আমরা জানতে পারি—একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি দল জোরপূর্বক ওই নেতার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছিল। এখান থেকেই স্পষ্ট হয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোট মানুষের মৌলিক অধিকার। এটি কেউ জোর করে কেড়ে নিতে পারে না। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ জোরপূর্বক ভোট নিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সাধারণ সনাতনীরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন সময় বদলেছে। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন। আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিএনপি নেবে।”
তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে যেতে বা ভোট দিতে বাধা দিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তা প্রতিরোধ করবে।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে আবু সুফিয়ান বলেন, “বিএনপি সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চায়। রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছে। এই দফাগুলো বাস্তবায়িত হলে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। যারা বুঝে গেছে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, তারাই এখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন বিএনপিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে। পূজায় উপহার দিতে গেলেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এখন সময় এসেছে আপনারা বিএনপির সঙ্গে এসে আমাদের কাজ দেখুন। বিএনপি ধর্মীয় বিভেদে বিশ্বাস করে না।”
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে হিন্দু নেতারা বিএনপির কমিটিতে থাকবেন, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দ পাল অরুণ। শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করেন হাজারী গলি জয়মাতা কালী মন্দিরের রতন আচার্য্য।
সভায় আরও বক্তব্য দেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, কার্যকরী সভাপতি আয়ান শর্মা, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, নিতাই প্রসাদ ঘোষ, অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, রাজীব ধর তমাল, রতন মজুমদার, উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, অশোক কুমার চক্রবর্তী, সুমন ঘোষ বাদশা, সুজন দাশ, অধ্যাপক শিপুল দে, এস কে নাথ শ্যামল, টিটু শীল, মাস্টার রণজিৎ কুমার দাশ, রাজেশ চক্রবর্তী, দেবু চক্রবর্তী, লিটন শীল, রাজীব নন্দী বাবু, সুজন বল, সোমা রাণী দাশ, রোমারিও সূত্রধর।
উপস্থিত ছিলেন ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, নুরুল আজিম হিরু, লায়ন তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, রবিশংকর আচার্য্য, অ্যাডভোকেট সলিল গুহ, লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, প্রকৌশলী সনজিৎ বৈদ্য, ডা. রাজীব বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ পালিত, সুভাষ দাশ, অনুপ রক্ষিত, বাবলু চৌধুরী, দুলাল মল্লিক, ধীরেন্দ্র দাশগুপ্ত, মৌসুমী চৌধুরীসহ সনাতন সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা সনাতনীদের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মতামত