বর্তমান বিশ্বে স্বধর্ম ও মানবীয় আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে উপধর্মের মোহে পড়ে মানবসমাজ এক চরম সংকটে নিপতিত হয়েছে। জাতিবাদ, জন্মবাদ, স্বার্থবাদ ও ধর্মীয় বিস্তারবাদের কবলে পড়ে আজ ধূলিসাৎ হতে বসেছে সনাতন সংস্কৃতি ও সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ। আদি সনাতন ধর্মের প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণকারী আদর্শকে ভুলে বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে উপধর্ম সৃষ্টি করায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈষম্য, বিবাদ ও অনৈক্য। মানবজাতির এই ক্রান্তিলগ্নে মানবত্ব রক্ষা ও সনাতন সমাজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে শ্রীমদ্ভগবদগীতার পরম বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে আত্মশুদ্ধির গুরুগম্ভীর আহ্বান জানিয়েছেন যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ।
শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ তাঁর বিশেষ প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন যে, শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বধর্ম পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। মানুষের প্রকৃত স্বধর্মই হলো মানবতা, যা অহিংসা, সংযম, সদাচার ও সমব্যবহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সমাজে অনৈক্য ও সহিংসতার মূলেই রয়েছে স্বধর্ম বর্জন এবং বিষয়াশক্তি ও ইন্দ্রিয়াসক্তির মতো উপধর্মের আশ্রয় গ্রহণ। নিজেকে যে জায়গায় রাখলে দুঃখ বা কষ্ট অনুভূত হয়—যেমন নিজ পরিবারের ওপর নির্যাতন, উপাসনালয় ভাঙচুর বা ধন-সম্পদ লুটপাটে যে বেদনার জন্ম হয়—ঠিক একই অনুভূতি অন্যের ক্ষেত্রেও উপলব্ধি করাই হলো প্রকৃত মানবত্ব স্বধর্ম। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ধর্ম ও আচার্যের নামে আজ যে হিংসা ও ভেদাভেদ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা মানুষকে পশুর পর্যায়ে নামিয়ে দিচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে তুলছে।
একই সঙ্গে সনাতন সমাজের গভীরতম ব্যাধি হিসেবে 'প্রতিহিংসা' নামক মহারোগের কথা তুলে ধরেন পরম পূজনীয় এই মহারাজ। তিনি আক্ষেপ করে জানান, নিজের স্বজন ও সমাজকে আপন করার পরিবর্তে আজ ভাইয়ে-ভাইয়ে, পরিবারে-পরিবারে এবং উপাসনালয় ও গুরুর ভেদাভেদ নিয়ে প্রতিহিংসা চরমে পৌঁছেছে। হিংসা ও অহংকারের বশে সনাতন সমাজ আজ নিজের হাতেই নিজেদের বিনাশ ঘটাচ্ছে, যা তাদের পঙ্গু করে ফেলছে। ভেতরের এই অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ নিয়ে বহিরাগত ও অন্যান্য গোষ্ঠী সনাতনীদের জমি-জমা, সম্পত্তি, ধর্ম ও নারীর ওপর বারবার আঘাত হানছে এবং আধিপত্য বিস্তার করছে। সময় থাকতে অন্ধত্ব দূর করে দয়া, ক্ষমা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিজ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ না করলে সনাতনীদের অস্তিত্ব, ধর্ম ও সম্পদ চিরতরে বিলুপ্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরিশেষে, সকল জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়কে উপধর্মের মোহ ত্যাগ করে সর্বাগ্রে 'মানবত্ব ধর্ম' অর্জনের পরম আহ্বান জানান যোগাচার্য্য স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ।
মতামত