একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় টক শো ‘জনতার দরবার’–এ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।
তিনি অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং নারীবিদ্বেষমূলক মানসিকতাকে কার্যত প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী ডা. মনীষা বুধবার রাতে ফেসবুক লাইভে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।
ডা. মনীষা জানান, টক শো চলাকালীন হঠাৎ করেই তাকে মঞ্চ থেকে সরে যেতে বলা হয়। তখন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি পর্বে একজন অতিথিকে পর্যায়ক্রমে বাইরে যেতে হয় এবং পরে আবার অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয়। তবে পরে তিনি লক্ষ্য করেন, অন্য কোনো অতিথির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি অজুহাত, যা স্বচ্ছতা ও সততার অভাবকেই স্পষ্ট করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বরিশাল-৫ আসনের চরমোনাইয়ের একজন প্রার্থী একজন নারীর সঙ্গে একই মঞ্চে বসে আলোচনা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তাকেই সরিয়ে দেওয়া হয়। ডা. মনীষার মতে, এটি নারীবিদ্বেষের একটি চরম উদাহরণ এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ সেই মনোভাবকে সমর্থন করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই একজন আমন্ত্রিত অতিথিকে এভাবে অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকতার মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যদি আগে থেকেই জানানো হতো যে অনুষ্ঠানে এমন একজন অতিথি উপস্থিত থাকবেন, যিনি নারীর সঙ্গে বসতে আপত্তি করেন এবং সেই কারণে তাকে সরে যেতে হতে পারে, তাহলে তিনি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন না বলেও জানান তিনি।
ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী মনে করেন, অতিথিকে এ ধরনের শর্ত বা পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম না জানানো সাংবাদিকতার নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যিনি সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী—নারীদের সঙ্গে এক মঞ্চে বসে আলোচনা করতে পারেন না, তিনি আদৌ সব মানুষের প্রতিনিধি হতে পারেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।’
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাসদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
মতামত