কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে একটি অস্থায়ী পূজা মণ্ডপে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেবী সরস্বতীর প্রতিমা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রোববার দিবাগত রাত ও সোমবার ভোরের দিকে, উপজেলার মোদক পাড়া এলাকার সাধু বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোদক পাড়া সাধু বাড়ির বাসিন্দা মনোরঞ্জন মোদকের উঠানে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে একটি অস্থায়ী মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিদিনের মতো পূজার আয়োজন চলছিল। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মণ্ডপে প্রবেশ করে প্রতিমায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দেবী সরস্বতীর প্রতিমাসহ মণ্ডপের বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা মণ্ডপের ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। প্রতিমা ভস্মীভূত দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার পরিবর্তে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর করিমগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতিমায় হামলার ঘটনার ধারাবাহিকতায় করিমগঞ্জের এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে পূজামণ্ডপ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মতামত