ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালী বাড়ি মন্দির থেকে চুরি হয়ে যাওয়া কষ্টিপাথরের কালী মূর্তিটি ফেনী সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূর্তি উদ্ধারের পাশাপাশি চুরি হওয়া মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রীও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করায় ফরিদপুর পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ভক্তবৃন্দ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফরিদপুর শহরের ২নং উত্তর কালীবাড়ী মন্দিরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে।
মন্দিরের সেবায়েত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী (পানু) জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরটি যথারীতি তালাবদ্ধ করে চলে যান। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূজার উদ্দেশ্যে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের লোহার দরজা, শাটার ও কেচি গেটের সবগুলো তালা কাটা এবং দরজা খোলা।
ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, মন্দিরের ভেতরের মূল কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি এবং মূর্তির শরীরে থাকা আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও। এছাড়া পিতলের ছোট ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ, মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গের সঙ্গে থাকা ৮-১০ ভরির রৌপ্য সাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির সময় মন্দিরের পাশের পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তির মহাদেব অংশ ও পায়ের পাতার কিছু অংশ উদ্ধার হলেও বাকি মূর্তির সন্ধান মেলেনি।
ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের পর ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোঃ মিয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানসহ সিআইডির একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে অবশেষে ফেনী সীমান্ত এলাকা থেকে মূর্তিটি উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মতামত