ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী।
একদিকে মাগুরা-২ আসনে বাবার পক্ষে, অন্যদিকে ঢাকা-৩ আসনে শ্বশুরের পক্ষে প্রচারণা—দুই মাঠেই সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কখনো ঢাকার কেরানীগঞ্জে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, আবার কখনো মাগুরার গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে ভোট চাওয়াই এখন তার দৈনন্দিন রুটিন।
নিপুণ রায় চৌধুরীর বাবা নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি মাগুরা-২ (মহম্মদপুর, শালিখা ও মাগুরা সদর উপজেলার একাংশ) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী। অন্যদিকে শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই হেভিওয়েট নেতার নির্বাচনী প্রচারণায় নিপুণ রায় চৌধুরীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নিপুণ কেবল তার মেয়ে নন, বরং দলের একজন নিবেদিত সৈনিক। এলাকায় নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকার সময় নিপুণ এসে কর্মীদের সংগঠিত করেন এবং মনোবল বাড়ান। তিনি আরও বলেন, নিপুণ যেমন বাবার জন্য কাজ করছেন, তেমনি শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের আসনেও সমানভাবে শ্রম দিচ্ছেন—এতে একজন বাবা হিসেবে তিনি গর্বিত।
মাগুরা সদর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা জানান, ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেও নিপুণ আপা নিয়মিত মাগুরায় এসে মাঠে নামেন। এতে কর্মীদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও নিপুণ রায় চৌধুরীর এই ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। দাতিয়াদাহ গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ঘরের বউ ও মেয়ে হয়ে দুই এলাকার নির্বাচনী দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তিনি শিক্ষিত, গুছিয়ে কথা বলেন এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যোগাযোগ করেন।
বহলবাড়িয়া গ্রামের ভোটার সুরভী খানম বলেন, নিপুণ রায় চৌধুরী বড় নেতার মেয়ে বা বউ হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের মতো গ্রামে এসে ভোট চাইছেন। রোদ-গরম উপেক্ষা করে মাইলের পর মাইল হেঁটে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। একজন নারী হয়ে তার এই পরিশ্রম আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
নিজের ভূমিকা সম্পর্কে নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, তিনি কেবল বাবা বা শ্বশুরের জন্য নয়, দলের জন্য কাজ করছেন। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সাধ্যমতো পালন করাই তার লক্ষ্য।
ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়েই বিএনপির জয় এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, দুই আসনের প্রচারণায় একসঙ্গে মাঠে নেমে নিপুণ রায় চৌধুরী নির্বাচনী রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
মতামত